দুই বাংলার চলচ্চিত্র অঙ্গনে জয়া আহসান এখন এক জনপ্রিয় নাম। চলতি বছরে ওপার বাংলায় মুক্তি পেতে যাওয়া তার নতুন সিনেমা ‘ওসিডি’ নিয়ে দর্শকদের মাঝে বেশ আগ্রহ দেখা গেছে। সিনেমাটিতে তিনি এক চিকিৎসকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই সিনেমার মূল বিষয়বস্তু ‘অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার’ বা ওসিডি এবং শিশু যৌন নির্যাতন বা পিডোফিলিয়া।
পরিচালক সৌকর্য ঘোষালের সঙ্গে এটি জয়া আহসানের তৃতীয় কাজ। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সিনেমার গল্প, এর কেন্দ্রে সামাজিক বাস্তবতা নিয়েও কথা বলেন অভিনেত্রী। তবে এ ধরনের গল্প আগে গুরুত্ব দিয়ে নির্মাণ হয়নি বলে আক্ষেপ রাখেন তিনি।
সিনেমাটি নিয়ে জয়া জানান, বাংলা সিনেমায় এর আগে ওসিডি বা পিডোফিলিয়া নিয়ে এমন গুরুত্ব দিয়ে কাজ হয়নি। বিশেষ করে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সামাজিকভাবে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। জয়া বলেন, শিশুদের মাধ্যমে যৌন আনন্দ খোঁজার চেষ্টা একটি মানসিক ব্যাধি এবং এই ট্রমা মানুষের শৈশব ও পরবর্তী জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।
সিনেমার গল্পের প্রসঙ্গের পর দুই বাংলার চলচ্চিত্র শিল্প ও কাজ নিয়ে আলোচনা চলে জয়া আহসানের সঙ্গে। সেখানে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়েও জয়াকে প্রশ্ন রাখা হয়। তবে জয়া মনে করেন, শিল্প কখনো বিভাজন ঘটায় না, বরং জোড়া লাগায়।
জয়ার কথায়, একজন শিল্পী যখন তার শিল্প নিয়ে শক্তিশালী বা নিশ্চিত থাকে, তাকে কোনো রাজনৈতিক দল করতে হয় না। তাকে অন্য কোনো কিছু নিয়ে টেনশন করতে হয় না। আমি সবসময় বলি, যে বাংলা সিনেমার জন্য কাজ করি। শুধুমাত্র বাংলাদেশের বাঙালিদের জন্য নয়, বা শুধু পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের জন্য নয়। সারা পৃথিবীতে যেখানে যত বাঙালি ছড়িয়ে আছে তাদের সবার কাছে পৌঁছাতে চাই আমি, একজন বাঙালি শিল্পী হয়ে। ইউএই কিংবা পাকিস্তানেও যে বাঙালি আছে, তার কাছেও পৌঁছতে চাই।
তবে দুই দেশের সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে তৈরি হওয়া বিদ্বেষকে সাময়িক বলে মনে করেন জয়া। তার মতে, ভার্চুয়াল জগতের এই নেতিবাচকতা বাস্তব চিত্র নয়। বিদ্বেষ ছড়ানো ব্যক্তিদের নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জয়া আহসান বলেন, গুটিকয়েক মানুষ সমাজমাধ্যমকে ভর করে বিদ্বেষ ছড়ায়। আমার তো সোশ্যাল মিডিয়াটাকে ডাস্টবিন মনে হয়। কিন্তু এপারে এসে আমি যে ভালোবাসা পাচ্ছি, আমার ছবি রিলিজ করছে, কমেন্টে কত ভালোবাসা পাচ্ছি, সেগুলো সত্যি। ওই বিদ্বেষ তো পাই না। কাজেই যারা এগুলো করে তারা কিন্তু গুটিকয়েক মানুষ। তারা এপারে আছে, ওপারেও আছে, তারাই বাকযুদ্ধটা করে।
জয়া মনে করেন, শিল্পী হিসেবে তারা এসবের ঊর্ধ্বে থেকে সারা পৃথিবীর বাঙালিদের জন্য কাজ করে যেতে চান এবং এই সাময়িক বিদ্বেষ তার কাজে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
কেএন/টিকে