মার্কিন বাজারে টানা দুই মাস ধরে কমছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রফতানি আয়। একই সময়ে চীনের হারানো বাজার দখলে এগিয়ে যাচ্ছে ভিয়েতনাম। উদ্যোক্তারা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অস্থির বাণিজ্য নীতির কারণে শিগগিরই মার্কিন বাজারে পোশাক রফতানি বাড়ানোর সম্ভাবনা কম।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য। বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট পোশাক রফতানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ আসে মার্কিন বাজার থেকে।
এই বাজারেই কমছে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের রফতানি। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দফতরের অধীন সংস্থা অটেক্সার হিসাবে, গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ৫২ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ কম। এর আগের মাস অক্টোবরে রফতানি কমেছিল ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
অক্টোবর ও নভেম্বরে কমলেও ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গেছে ৭৬০ কোটি ২৬ লাখ ডলারের বাংলাদেশি তৈরি পোশাক। মোটের এই হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ। এ অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসনের অস্থির বাণিজ্য নীতিতে বাজারটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর খবর দিতে পারছেন না উদ্যোক্তারা।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, মার্কিন বাজারে এখন দুটি বড় অনিশ্চয়তা কাজ করছে। উচ্চ শুল্ক এবং নতুন নতুন বাণিজ্য চুক্তি। এতে ক্রেতারা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন। আগে যেখানে শুল্ক বাবদ ১৬-১৭ টাকা খরচ হতো, এখন অতিরিক্ত ২০ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে। ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে এবং আমদানি হ্রাস পেয়েছে। আবার মজুত শেষ হলে নতুন অর্ডার আসে, তাই বাজারের গতিপ্রকৃতি আগে থেকে অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, একক মাস কিংবা ১১ মাসের সামগ্রিক হিসাব-দুই ক্ষেত্রেই মার্কিন পোশাক বাজারে বড় ব্যবধানে অবস্থান হারাচ্ছে চীন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ভিয়েতনাম। নভেম্বরে দেশটির পোশাক রফতানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং ১১ মাসের হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
নভেম্বরে ভারতের রফতানিও ধাক্কা খেলেও ১১ মাসের হিসাবে দেশটির প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি। তবে প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে কম্বোডিয়া।
এসকে/টিকে