পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিএনপির বিদ্যমান আরও ১২৯টি কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। গত বুধবার গলাচিপা উপজেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা ও সদস্যসচিব আলতাফ খান স্বাক্ষরিত এক লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিস্ক্রিয়তা এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার অভিযোগে এসব কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্রুত নতুন কমিটি ঘোষণার কথাও জানানো হয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি এবং দশমিনা যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি সমর্থিত জোট প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর এবং বিএনপির বহিষ্কৃত ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরেই দুই উপজেলার বিএনপিতে ধারাবাহিক ভাবে কমিটি বিলুপ্তি ও বহিষ্কারের ঘটনা ঘটে।
দলীয় সূত্র জানায়,গলাচিপা পৌরসভায় বিএনপির ৯টি কমিটি ছিল। এছাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ১২টি ইউনিয়ন কমিটির অধীনে ১০৮টি ওয়ার্ড কমিটি সক্রিয় ছিল। এসব কমিটির অধিকাংশ নেতা-কর্মী গত তিন বছর ধরে উপজেলা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
গত ১৭ জানুয়ারি গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান দুটি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। পরে ২ ফেব্রুয়ারি ওই দুই উপজেলায় নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৩ ফেব্রুয়ারি গলাচিপা উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং দশমিনা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
অন্যদিকে ৩ ফেব্রুয়ারি দশমিনা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এনামুল হক রতন, যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী খান এবং গলাচিপা যুবদলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মাহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম মিন্টু ও সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মঈনকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে ২১ জানুয়ারি দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী তানজির আহমেদকে বহিষ্কার করে একই পদে আবুল বশারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, বিলুপ্ত কমিটির অনেক নেতা-কর্মী দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় চালাতেন। এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গলাচিপা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একের পর এক কমিটি বিলুপ্ত ও বহিষ্কার শুরু হয়েছে। নুরুল হক নূরকে বিজয়ী করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে। এটি দলকে দুর্বল করার কৌশল।’
গলাচিপা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অনেকে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করছিলেন। তাই কমিটি গুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় বিএনপিকে অবহিত করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে পটুয়াখালী-৩ আসনটি ছেড়ে দেয় বিএনপি।
অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হাসান মামুন পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে পরে তা জমা দেন। পরে ৩০ ডিসেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে হাসান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর, অর্থাৎ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার এক দিন আগে হাসান মামুন দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের কথা জানান।
এসকে/টিকে