ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ভোটকেন্দ্র দখলের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। ভোটকেন্দ্রে অনৈতিক উদ্দেশ্যে যারা আসতে চায়, তাদের বলছি আসার আগে বাবা-মা ও সন্তানদের কাছে ক্ষমা চেয়ে আসুন। সময় কিন্তু পাবেন না।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বগুড়ার কাহালু উপজেলার বটতলা এলাকায় আয়োজিত মার্চ ফর দাঁড়িপাল্লা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের মাধ্যমে জনগণের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামো দেখতে চাই না। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই তারা শত শত মানুষকে হত্যা করেছে, বহু মা-বোন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ধরনের শক্তি বাংলাদেশের জন্য অনিরাপদ।
তিনি আরও বলেন, যারা বাংলাদেশকে অনিরাপদ করতে চায়, তাদের আমরা লাল কার্ড দেখিয়ে রুখে দেব। নিরাপদ ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয় অর্জন করব, ইনশাল্লাহ।
গণভোট প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, হ্যাঁ এর পক্ষে রায় মানে জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। সংবিধান কেউ নিজের ইচ্ছামতো সংশোধন করতে পারবে না। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী আসামিদের রাষ্ট্রপতি খেয়ালখুশিমতো ক্ষমা করতে পারবেন না। ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক হবে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, হ্যাঁ এর পক্ষে রায় মানে স্বাধীনতার পক্ষে রায় এবং আধিপত্যবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করার পক্ষে রায়। তাই সবাইকে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিতে ও আশপাশের মানুষদের উৎসাহিত করতে আহ্বান জানাচ্ছি। একটি দল প্রকাশ্যে এক কথা বলে, ভেতরে আরেক কথা বলে এটি স্পষ্ট মুনাফেকি। তারা অতীতেও কৃষক ঋণ মওকুফ, স্বাস্থ্যবীমা ও বেকার ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়ন করেনি। তাদের শাসনামলে দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ বিশ্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয়গুলো সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্তভাবে পরিচালিত হয়েছিল। অন্যদিকে, অন্যান্য মন্ত্রণালয় লুটপাট করে দেশকে বারবার দুর্নীতির শীর্ষে নিয়ে গেছে।
সমাবেশের শেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গল সবই জনগণ দেখে ফেলেছে। এবার ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করবে জনগণ। দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হলে দখলদার ও জুলুমকারীরা এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবে।
তিনি নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। পরে দোয়া ও সালামের মাধ্যমে সমাবেশের কার্যক্রম শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে মার্চ ফর দাঁড়িপাল্লা কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কাহালু উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সভায় ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বগুড়া-৪ (৩৯) আসনের প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনিসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সিনিয়র নেতারা।
এমআই/এসএন