পরিবারটির আর কেউ বেঁচে থাকল না

একটি দুর্ঘটনা, সারা জীবনের কান্না—এই আপ্ত বাক্যটিকে বারবার প্রমাণ করে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। সেই সঙ্গে মর্মান্তিক মৃত্যুর মিছিলও বড় হচ্ছে। এই মিছিলে সর্বশেষ যোগ হলো একই পরিবারের ছয় জন বাবা-মা তিন মেয়ে ও এক ভাগ্নি। একটি পুরো পরিবার পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে গেল একটি দুর্ঘটনায়। শুধু তাই নয়, ঐ একই দুর্ঘটনায় মা-বাবা ও নানুকে হারিয়েছে সাত বছরের শিশু।

গত বুধবার সকালে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায়। ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই পরিবারের আট জনসহ ১০ জন নিহত হয়। এদের মধ্যে ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরিরত রফিকুল ইসলাম শামীম (৪৬) তার স্ত্রী লুত্ফুন নাহার সুমি (৩৫), দুই মেয়ে আনীষা (১৪) ও লিয়ানা (০৮) ও ভাগ্নি তানিফা ইয়াসমিন (১৬) নিহত হন, গুরুতর আহত হন তার বড় মেয়ে তাসনিয়া ইসলাম প্রেমা (১৮)। গতকাল শুক্রবার সকালে প্রেমাও চিকিত্সাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এতে ঐ পরিবারের আর কেউই বেঁচে থাকলেন না। তাদের বাড়ি পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নে। পরিবার-পরিজন নিয়ে শামীম ঢাকার মিরপুরে থাকতেন।

প্রেমার মৃত্যুতে লোহাগাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ হলো।

ঐ একই দুর্ঘটনায় অপর এক পরিবারের তিন জন নিহত হয়েছেন। সাত বছরের শিশু আরাধ্য বিশ্বাস বাবা-মা ও নানুকে হারিয়ে পৃথিবীতে একা হয়ে গেছে। হাসপাতালের বিছানায় অঝোরে কাঁদছে আর বাবা-মাকে খুঁজছে। সে এখনো জানে না তার বাবা-মা বেঁচে নেই। আরাধ্যের মা সাধনা মণ্ডল (৩৭), বাবা দিলীপ বিশ্বাস (৪৩) ও নানা আশীষ মণ্ডল (৫০) সেই দিন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। আহত হন তার মামা দুর্জয় মণ্ডল (১৮)। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার উত্তর বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা দিলীপ বিশ্বাস ও তার পরিবার। কক্সবাজার যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে আরাধ্য। বর্তমানে উন্নত চিকিত্সার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। আর বোয়ালিয়া গ্রামের পৈত্রিক শশ্মানে তার বাবা-মায়ের দাহ হয়েছে।
নিহত অপর দুই জনের একজন মাইক্রোবাসের চালক ও অপরজন নিহত শামীমের বন্ধু। পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে দুই পরিবারের স্বজনরা শোকাহত।

প্রেমার মামা রবিউল হাসান বলেন, ‘দুলাভাই শামীমের পরিবারে সর্বশেষ তার বড় ভাগনি প্রেমার মৃত্যুতে পুরো পরিবার দুমড়ে-মুচড়ে গেল। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু যেন কারো জীবনে আর কখনো না ঘটে।’ প্রেমার ছোট মামি জেসমিন রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মা-বাবা ও বোনসহ পরিবারের সবাই চলে গেল।’

এসএন 

Share this news on:

সর্বশেষ

img
বিদেশি মিডিয়া অনেক সময় মিথ্যা সংবাদ দেয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Apr 06, 2025
img
সাভারে বজ্রপাতে নারী পোশাক শ্রমিকের প্রাণহানি Apr 06, 2025
img
ঈদ শেষে চুলা জ্বালানোর সময় সতর্ক থাকতে তিতাসের পরামর্শ Apr 06, 2025
img
'বাচ্চার বয়স ১০ হলে, তোর হবে ৭০ বছর : দেবকে বাবা-মায়ের তীক্ষ্ণ মন্তব্য Apr 06, 2025
img
'শহীদ জিয়াউর রহমানের পর সফল রাষ্ট্রনায়ক পেয়েছি’ Apr 06, 2025
img
ব্যয়বহুল সফরের কারণে ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট বরখাস্ত Apr 06, 2025
img
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি পজিটিভ: আন্দালিব রহমান পার্থ Apr 06, 2025
img
আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে অগ্নিকাণ্ড, যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক Apr 06, 2025
img
শাহবাগে ফুলের মার্কেটে আগুনে দগ্ধ ৫ জন Apr 06, 2025
img
ভিনিসিয়ুসের পেনাল্টি মিসে বার্নাব্যুতে রিয়ালের হতাশাজনক পরাজয় Apr 06, 2025