মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কিছু কঠোর পরিবর্তন এনেছে, যা বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিবাহ সূত্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার আবেদনকারীদের জন্য আবেদনপত্র হালনাগাদ করা হয়েছে, সাক্ষাৎকারের প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং আর্থিক তথ্যের বিস্তারিত বিবরণ জমা দিতে হবে।
মার্কিন নাগরিকত্ব এবং অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, গ্রিন কার্ডধারীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার তখনই থাকবে, যখন তারা কোনো আইন ভঙ্গ না করে এবং নিয়মিত কর পরিশোধ করে। তবে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের আয়, সম্পত্তি, ঋণ এবং সরকারি সহায়তার বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। এছাড়াও, আবেদনকারীর সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা, লাইসেন্স এবং দক্ষতার তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে।
ইমিগ্রেশন আইনজীবী র্যাচেল আইনবান্ড নিউজউইককে জানান, এই পরিবর্তনগুলো মূলত “ভয় দেখানোর কৌশল” হিসেবে কাজ করতে পারে, যাতে কম আয় বা শিক্ষা না থাকা ব্যক্তিরা আবেদন করতে নিরুৎসাহিত হন।
তিনি আরও বলেন, বিবাহ সূত্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করা হয়েছে, যা বাইডেন প্রশাসনের সময় স্থগিত করা হয়েছিল।
এই পরিবর্তনের ফলে, বাংলাদেশি অভিবাসীরা গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন। বিশেষ করে, যাদের আর্থিক অবস্থা দুর্বল বা শিক্ষাগত যোগ্যতা কম, তাদের জন্য এই নিয়মগুলো একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ইউএসসিআইএস-এর মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস এবং কাজের জন্য যারা অভিবাসন সুবিধা চান, তারা যেন জননিরাপত্তার জন্য হুমকি না হন, জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষতি না করেন বা ক্ষতিকর মার্কিন-বিরোধী আদর্শ প্রচার না করেন, তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর স্ক্রিনিং এবং যাচাইকরণ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে ইউএসসিআইএস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এদিকে, আগামী ৮ এপ্রিল গ্রিন কার্ডধারী ফিলিস্তিনি অ্যাক্টিভিস্ট মাহমুদ খলিলকে অপসারণের জন্য অভিবাসন বিচারকের সামনে হাজির করা হবে। তার বিরুদ্ধে হামাসের প্রতি সমর্থন জানানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
আইনজীবীরা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন আরও কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়ন করতে পারে, যার মধ্যে আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলের তথ্য চাওয়াও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশী অভিবাসীদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এফপি/এসএন