সমাজে কিছু মানুষ যারা আলো দেখান, পথ দেখান, যাদের কাজে আস্থা ফিরে মানুষের মাঝে, খায়রুল সেই আলোকিতদের একজন। অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই পরিশ্রমী যুবক। ২৫ লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণ পেয়েও অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন প্রকৃত মালিকের কাছে। আর এ সততার নজির স্থাপন করে আজ তিনি রিয়েল হিরো। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বেত গাড়ি এলাকার যুবক খায়রুল ইসলাম।
জীবনের প্রয়োজনে জীবিকার তাগিদে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালান। পাশাপাশি তিনি সরকারি শাহ সুলতান কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। দিনভর সিএনজি চালনা করলেও নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন মানবিক ব্যক্তি হিসেবে। ব্যাগ ভর্তি সাড়ে ১৮ ভরি স্বর্ণ ফিরিয়ে দিয়ে সমাজকে ফিরিয়ে দিয়েছেন আস্থা ও বিশ্বাস। বগুড়ার তরুণ খায়রুল ইসলাম তার সততা ও মানবিকতায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
বগুড়া সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, ২৯ মার্চ পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার গোপাল নগরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. শাহিন বগুড়ায় আসেন। তিনি ১৮ ভরি স্বর্ণ কেনেন এবং সেই স্বর্ণ ও নগদ ১৫ হাজার টাকা একটি কালো ব্যাগে রেখে সিএনজিতে উঠেন। শহরের বনানী এলাকায় পৌঁছে পাবনাগামী বাস দেখে তাড়াহুড়ো করে তাতে উঠে পড়েন। সিএনজিতে রয়ে যায় তার সেই কালো ব্যাগটি। শাজাহানপুরে ইফতারের বিরতিতে মনে পড়ে তার ব্যাগের কথা। দিশেহারা হয়ে কোথাও কিছু না পেয়ে এক বুক হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
এদিকে ব্যাগটি খুঁজে পান সিএনজি চালক খায়রুল ইসলাম, যিনি একজন কলেজ শিক্ষার্থী। দিনভর সিএনজি চালিয়ে নিজের পড়ালেখার খরচ চালান এই তরুণ। তিনি পরিচিত ট্রাফিক সার্জেন্ট আলমগীরের মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে সদর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীনের উপস্থিতিতে শুক্রবার রাতে প্রকৃত মালিক শাহিনের হাতে ব্যাগটি তুলে দেন। ব্যাগে থাকা ১৮ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ হাজার টাকা ছিল অক্ষত। যা দেখে অবাক সবাই।
ব্যাগ ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত শাহিন বলেন, ভেবেছিলাম সব হারিয়ে ফেলেছি। খায়রুলের সততা আমাকে মুগ্ধ করেছে। ওর মতো মানুষ থাকলে সমাজের কোনো ভয় নেই।”
সদর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীন বলেন, 'খায়রুলের মতো শিক্ষার্থীরা সমাজের জন্য আশার আলো। সে শুধু সৎ নয়, দায়িত্বশীল ও মানবিকও। সে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন স্বর্ণ আর নগদ টাকা। সে রিয়েল হিরো। তার মতো মানুষ আমাদের সমাজ তথা রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিবে সামনের দিকে। খায়রুল এ সমাজের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত'।
এসএন