ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামলেন ফেডারেল রিজার্ভ গভর্নর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) গভর্নর লিসা কুক। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, তাকে অপসারণ করার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনো সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই। যা প্রেসিডেন্ট এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী নিয়ম পুনর্নির্মাণের জন্য একটি আইনি লড়াই শুরু করবে।

ট্রাম্প কুককে তার চাকরি থেকে অপসারণের বিষয়ে একটি চিঠি প্রকাশ করার তিন দিন পর, বৃহস্পতিবার এই মামলা দায়ের করা হয়।

মামলায়, কুক যুক্তি দেন যে, ট্রাম্প তাকে তার পদ থেকে অপসারণের চেষ্টা করে ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন। ১৯১৩ সালের ফেডারেল রিজার্ভ আইনের অধীনে, প্রেসিডেন্ট কেবল ‘কারণ অনুযায়ী’ একজন ফেডারেল রিজার্ভ গভর্নরকে অপসারণ করতে পারেন, যা সাধারণত গুরুতর অসদাচরণ বা কর্তব্যে অবহেলার অর্থ বোঝায়।

দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা হিসেবে, ফেডারেল রিজার্ভকে প্রেসিডেন্ট বা কংগ্রেসের মতো সরকারের রাজনৈতিক শাখা থেকে স্বাধীন বলে মনে করা হয়। তত্ত্বগতভাবে, এটি রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই আর্থিক নীতি নির্ধারণ করতে সক্ষম হতে পারে।

কিন্তু ট্রাম্পের অধীনে ফেড হোয়াইট হাউস থেকে তার স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারবে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে তীব্র প্রভাব পড়তে পারে। ট্রাম্প প্রথমে কুককে অপসারণের কথা বলার পর মার্কিন ডলার অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে পড়ে যায়।

কিন্তু ট্রাম্প গত সোমবার (২৫ আগস্ট) নজিরবিহীনভাবে ঘোষণা দেন, তিনি কুককে বরখাস্ত করবেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, ফেডে যোগদানের আগে ২০২১ সালে মর্টগেজ জালিয়াতি করেছিলেন কুক।

তবে অভিযোগটি অস্বীকার করে কুক বলছেন, এমনকি অভিযোগ সত্যও হলেও তা তার অপসারণের ‘বৈধ কারণ’ হতে পারে না।

ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা ও এর ওপর অস্থায়ী স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন কুক। মামলার চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত ফেড যেন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারে, আবেদনে সেই আদেশ চাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার মামলা দায়েরের আগে ফেডারেল রিজার্ভের একজন মুখপাত্র বলেছিলেন যে ব্যাংক আদালতের যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে চলবে।

কুককে ২০২২ সালে ফেডারেল রিজার্ভে নিযুক্ত করেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যিনি একজন ডেমোক্র্যাট ছিলেন, এবং কুক প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী যিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

এফপি/ টিএ

Share this news on:

সর্বশেষ

img
দেশের ৮ বিভাগেই বৃষ্টি হওয়ার আভাস, কমবে তাপমাত্রা Aug 29, 2025
img
এশিয়া কাপে খরচ বাঁচাতে ক্রিকেটারদের ভাগে ভাগে দুবাই পাঠাবে ভারত Aug 29, 2025
img

অন্তর্বর্তী সরকারকে জামায়াত

আ.লীগ আমলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের খুঁজুন, জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করুন Aug 29, 2025
img
বরগুনায় ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নতুন করে আক্রান্ত আরও ৩৮ জন, মোট নিহত ৪৩ Aug 29, 2025
img
বাছাইপর্ব শেষে আরও ২ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ ভেনেজুয়েলা Aug 29, 2025
img

মিয়ানমার নির্বাচন

ভোটারদের উৎসাহিত করতে এবার সরাসরি মাঠে সেনাপ্রধান নিজেই! Aug 29, 2025
img
এই সানগ্লাস আমার নয় কিন্তু সে আমার : পরীমণি Aug 29, 2025
img
আপনারা ক্ষমতার কাছেও আসেননি, নেতাকর্মীদের মির্জা ফখরুল Aug 29, 2025
img

মার্কিন সিনেটরের কড়া হুঁশিয়ারি

'পুতিনকে সমর্থনের খেসারত দিচ্ছে ভারত, বাকিদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে' Aug 29, 2025
img
আগামী ৭-৮ বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যু আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে দেখা দেবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Aug 29, 2025
img
টমেটো ১৪০, কাঁচা মরিচ ২০০, সবজির চড়া দামে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের Aug 29, 2025
img

এশিয়া কাপ হকি

মালয়েশিয়ার কাছে ৪-১ গোলে হারল বাংলাদেশ Aug 29, 2025
img
মুক্তির আগেই বাজিমাত, আন্তর্জাতিক পুরস্কারে মোড়ানো ‘অর্জুন চক্রবর্তী’ Aug 29, 2025
img
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত রোডম্যাপ গতানুগতিক, বিভ্রান্তিমূলক: জামায়াত Aug 29, 2025
img
আবারও যুদ্ধের সতর্কবার্তা ইরানের Aug 29, 2025
img
চাকরিজীবী থেকে বলিউড নায়িকা হয়ে উঠলেন অভিনেত্রী সোহা Aug 29, 2025
img
শুটিং সেটে বিশৃঙ্খলা, আয়ুষ্মান-সারার ঝগড়া ভাইরাল Aug 29, 2025
img
আটালান্টার হয়ে মাঠে নামার আগে সামাজিকমাধ্যমে বার্তা দিলেন সাকিব Aug 29, 2025
img
জর্জিয়ার পেইজ ইউইং জিতলেন মিসেস আমেরিকার মুকুট Aug 29, 2025
img
সবচেয়ে বড় সমস্যা নিরপেক্ষভাবে ভোট অনুষ্ঠান : কাদের সিদ্দিকী Aug 29, 2025