রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লাইয়েন। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘একজন শিকারি’ বলে অভিহিত করেছেন এবং ন্যাটোর প্রচারিত কথাবার্তা অনুসরণ করে রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকিকে তুলে ধরেছেন। যার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিকীকরণ ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টা পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়।
শুক্রবার লাটভিয়ার রাজধানী রিগায় লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রী এভিকা সিলিনার সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন ভন ডার লাইয়েন। এই সফরকে তিনি “ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফ্রন্টলাইন রাষ্ট্রগুলো” পরিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেন। সফরের মধ্যে রয়েছে রাশিয়া বা বেলারুশের সীমান্তবর্তী ফিনল্যান্ড, এস্তানিয়া, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, পোল্যান্ড এবং বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া।
ভন ডার লাইয়েন বলেন, “পুতিন একজন শিকারি।” তিনি অভিযোগ করেন, পুতিনের রহস্যময় ‘প্রক্সি’ বা প্রতিনিধিরা ইউরোপীয় সমাজগুলোকে বছরের পর বছর ধরে সাইবার আক্রমণ ও অন্যান্য তথাকথিত ‘হাইব্রিড হামলার’ মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া অভিবাসীদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে—যদিও তিনি এই অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিতর্কিত ‘ওপেন ডোর’ অভিবাসন নীতির কথাও উপেক্ষা করেন, যা বিগত এক দশকের বেশি সময় ধরে অভ্যন্তরীণ সমালোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, কথিত রাশিয়ান হুমকির প্রেক্ষিতে ইইউ-এর পুনরায় অস্ত্রায়নের পরিকল্পনা একান্ত জরুরি। “আমরা যেমন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা জোরদার করছি, তেমনি আমাদের নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি করে নিতে হবে,” মন্তব্য করেন তিনি।
গত মার্চে, ভন ডার লাইয়েন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিক খাতে অর্থায়নের জন্য ঋণ ও কর ছাড়ের মাধ্যমে ৮০০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৯৩৪ বিলিয়ন ডলার) সংগ্রহের একটি পরিকল্পনার কথা বলেন। পরে ইউরোপীয় কাউন্সিল ১৫০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ নেওয়ার একটি ব্যবস্থা অনুমোদন করে।
রাশিয়া এই পদক্ষেপকে পশ্চিমা বিশ্বের “বেপরোয়া সামরিকীকরণ” হিসেবে নিন্দা করেছে এবং নেটো বা ইইউ রাষ্ট্রগুলোতে হামলার অভিযোগকে “নির্জন কল্পনা” বা ‘ননসেন্স’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট পুতিনসহ অন্যান্য রুশ কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমা নেতারা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে সামরিক বাজেট বাড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং নিজেদের অর্থনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করতে চাইছেন।
সম্প্রতি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইইউ-কে “চতুর্থ রাইখ”-এর দিকে ধাবিত হওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, ইইউ রুশবিরোধী উন্মত্ততায় ডুবে গেছে এবং তাদের সামরিকীকরণ এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইউক্রেনকে ন্যাটো সদস্য করার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন, তখন ইউরোপীয় দেশগুলো ‘নেটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর মতো নিরাপত্তা গ্যারান্টি’ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনা করতে থাকে। ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকরা ইউক্রেনে 'শান্তিরক্ষী' বাহিনী পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা করছেন এবং একটি বাফার জোন গঠনের প্রস্তাব দিচ্ছেন, যেখানে পশ্চিমা বাহিনীর টহল থাকবে।
রাশিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইউক্রেনে নেটোর যেকোনো রকম বাহিনীর মোতায়েন প্রত্যাখ্যান করে এবং যে কোনো শান্তি চুক্তির জন্য ইউক্রেনের নিরস্ত্রীকরণ, নাৎসিবাদমুক্তকরণ, নিরপেক্ষ ও অ-পরমাণু অবস্থান এবং ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানায়।
সূত্র: আরটি
এমআর/টিএ