নতুন শ্রম আইনের খসড়া পরিবর্তন চায় কারখানা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ)। সংগঠনটির দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আইএলওর পরামর্শে মালিক-শ্রমিকের বিভাজন বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা জানান, নতুন সংশোধনীতে শ্রমিক সংগঠনের সংখ্যা বাড়ার সুযোগ থাকায় বিদেশি ক্রেতারা আতঙ্কিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে ক্রয়াদেশ কমবে। প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে রফতানি বাজারে।
নেতারা অভিযোগ করেন, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তার মধ্যে আস্থা তৈরি করতে সরকারি উদ্যোগ নেই।
তারা আরও বলেন, আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় না নিয়ে বিদেশি পরামর্শে একতরফাভাবে শ্রম আইন করা হলে হুমকিতে পড়বে রফতানিমুখী পোশাক শিল্প।
বিইএফ সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, পাঁচ হাজার শ্রমিকের একটি কারখানায় মাত্র ২০ জন শ্রমিক মিলে যদি একটি ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করে, তবে তা মোট শ্রমিকদের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করবে না। একইভাবে, সর্বোচ্চ পাঁচটি ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ থাকলেও সেখানে সর্বাধিক ১৫০ জন শ্রমিক মিলেই পাঁচটি ইউনিয়ন গঠন করতে পারবে, যা প্রকৃত শ্রমিক স্বার্থকে প্রতিফলিত করবে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, শ্রম আইন সংশোধনের প্রস্তাবিত কিছু ধারা বাস্তবায়িত হলে শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে। এমন অস্থিতিশীলতার ফলে সময়মতো ক্রয়াদেশ সরবরাহ ব্যাহত হলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ফজলে শামীম এহসান আরও বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীর কারণে ঘন ঘন শ্রম বিরোধ দেখা দিলে বিনিয়োগকারীরা বিকল্প গন্তব্যে সরে যেতে পারেন। অতীতে কম্বোডিয়ায় এ ধরনের অস্থিতিশীলতার কারণে বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছিল, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছিল ভিয়েতনাম।
এফপি/ টিকে