সক্রেটিস, হাকানদের পথ ধরে জনতার কণ্ঠস্বর "নোভাক জোকোভিচ"

২৪ বারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচের নাম আজ শুধু টেনিস কোর্টেই নয়, বরং সার্বিয়ার রাজপথেও উচ্চারিত হচ্ছে। সার্বিয়ান এই কিংবদন্তিকে টেনিস ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হলেও এখন তিনি নিজের দেশের ইতিহাসের ভিন্ন এক অধ্যায়ে নাম লিখিয়েছেন।

গত নভেম্বরে সার্বিয়ার একটি রেলওয়ে স্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর পর থেকেই দেশজুড়ে উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ, মিছিল আর স্লোগানে মুখর সার্বিয়া। আন্দোলন এখন রূপ নিয়েছে আট বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচের পতনের দাবিতে।

এই আন্দোলনের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জোকোভিচ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনরত তরুণদের উদ্দেশে তিনি লিখেছিলেন, “আমি তরুণদের শক্তিতে বিশ্বাস করি। তাদের কণ্ঠস্বরই আমাদের ভবিষ্যৎ গড়বে। তারা আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং তাদের প্রতি আমাদের সম্মান জানানো উচিত।”



এই বার্তা আন্দোলনকারীদের নতুন অনুপ্রেরণা দিলেও, সরকারপন্থীদের চোখে জোকোভিচ পরিণত হয়েছেন বিতর্কিত এক চরিত্রে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন চলতি বছরের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ম্যাচ জয়ের পর তিনি সেই জয় উৎসর্গ করেন আন্দোলনে প্রাণ হারানো এক শিক্ষার্থীর উদ্দেশে।

এরপর বেলগ্রেডে এক বাস্কেটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে জোকোভিচ পরেছিলেন একটি বিশেষ বার্তাবাহী টি-শার্ট, যেখানে লেখা ছিল - “স্টুডেন্টস অ্যান্ড চ্যাম্পিয়ন্স”। এই প্রতীকী বার্তাটি আরও স্পষ্ট করে দিল যে, দেশের তরুণদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।

এই ঘটনায় অনেকেই ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার সক্রেটিসকে মনে করছেন, যিনি একসময় ব্রাজিলের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলেন। ঠিক তেমনিভাবেই নোভাক জোকোভিচও নিজেকে আলাদা করে তুলেছেন এক অনন্য সাহসী কণ্ঠ হিসেবে।

এখন নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় জোকোভিচ এবং তার পরিবার কঠিন সময় পার করছেন। এমনকি দেশ ছাড়ার কথাও ভাবছেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম গোলদাতা হাকান শুকুরের মতো তিনিও হয়তো একদিন প্রবাসী জীবনে বাধ্য হবেন, যিনি তুরস্ক সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শেষ পর্যন্ত দেশছাড়া হয়েছিলেন।

নোভাক জোকোভিচের এই অবস্থান প্রমাণ করে, কিংবদন্তিরা শুধু খেলার মাঠেই নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইতেও আলাদা। তার এই সাহসী ভূমিকা আজ সারাবিশ্বের কোটি ভক্তের কাছে অনুপ্রেরণা।

টিকে/

Share this news on:

সর্বশেষ

img
দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে: নাহিদ Sep 01, 2025
img
‘বাহাত্তরের সংবিধান ছুড়ে ফেলা যাবে না, সংশোধন হতে পারে’ Sep 01, 2025
img
চাপে পড়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে: তাহের Sep 01, 2025
img
দেশের জনগণ নির্বাচন উৎসবে মেতে উঠেছে: হেলাল Sep 01, 2025
img
নির্বাচন বানচালে ষড়যন্ত্রের ডালপালা মেলতে শুরু করেছে: তারেক রহমান Sep 01, 2025
img
নুরুল হক নুরকে দেখতে ঢামেকে নাহিদ-সারজিস Sep 01, 2025
img
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আইসিইউতে Sep 01, 2025
img
চবিতে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া সেই শিক্ষার্থী শিবির নেতা Sep 01, 2025
img
বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরকে Sep 01, 2025
img
নির্বাচনে বাধা দিলে আবারও পরাজিত হবেন: দুদু Sep 01, 2025
img
ফরহাদের প্রার্থীতা নিয়ে রিট করা ফাহমিদা নীরব ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে, ৩০ জুলাই শেয়ার করেছিলেন 'মেট্রোরেলের ভাঙ্গা কাঁচের' ছবি Sep 01, 2025
img
দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে: ত্রাণ উপদেষ্টা Sep 01, 2025
img
ক্যারিয়ারের ৪৬তম শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে লিওনেল মেসি! Aug 31, 2025
img
প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন Aug 31, 2025
img
একযোগে বদলি টঙ্গীর দুই থানার ওসি Aug 31, 2025
img
চবিতে স্থানীয়দের হামলায় ১৫শ’ শিক্ষার্থী আহত, আইসিইউতে ২ Aug 31, 2025
img
বাকৃবি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ Aug 31, 2025
img
ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক উপসম্পাদক থেকে ডাকসুতে বামজোটে হেমা চাকমা Aug 31, 2025
গুজরাটে ভুয়া ভোটারের তথ্য প্রকাশ করলেন কংগ্রেস নেতা Aug 31, 2025
ফোনকলে নুরুল হক নুরের খোঁজ নিলেন রাষ্ট্রপতি Aug 31, 2025