• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২০, ২৭ চৈত্র ১৪২৬

পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় বন: অ্যামাজন জঙ্গল

পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় বন: অ্যামাজন জঙ্গল

ফিচার ডেস্ক১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:১০এএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

পৃথিবীর সব থেকে বড় রেইনফরেস্ট অ্যামাজনের অবস্থান দক্ষিণ আমেরিকার অ্যামাজন নদী বিধৌত অঞ্চলে। বনাঞ্চলটি অ্যামাজন অরণ্য, অ্যামাজন বন, অ্যামাজন জঙ্গল বা অ্যামাজন রেইনফরেস্ট প্রভৃতি নামে পরিচিত। প্রকৃতির লীলাভূমি এই বিশাল বনটিকে পৃথিবীর ফুসফুস বলেও ডাকা হয়ে থাকে।

অ্যামাজন জঙ্গল এতটাই বিশাল যে, তা পৃথিবীর সমস্ত রেইনফরেস্টের মোট আয়তনের প্রায় অর্ধেক। দ. আমেরিকার নয়টি দেশজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল বনভূমির আয়তন প্রায় ৫৫ লাখ বর্গ কিলোমিটার। বনের প্রায় ৬০ শতাংশের অবস্থান ব্রাজিলে, ১৩ শতাংশ পেরুতে এবং কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, গায়ানা, সুরিনাম ও ফরাসি গায়ানা জুড়ে রয়েছে এর বাকি অংশ।

প্রায় ৭০ লাখ বর্গকিলোমিটার অববাহিকা পরিবেষ্টিত এলাকাটি মূলত আর্দ্র জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত। অ্যামাজনের বনরাজির বৈচিত্র্য পৃথিবীর যে কোনো অঞ্চলের থেকে বেশি। ইউএসএ টুডের তথ্য অনুযায়ী এ বনে আম, কলা, পেয়ারা, সুপারি প্রভৃতিসহ প্রায় ৪০ হাজার প্রজাতির গাছগাছালি রয়েছে।

এছাড়াও অ্যামাজনে রয়েছে বহু ঔষধি গাছের সমাহার। জীব বৈচিত্র্যের আধার এই বনটিতে প্রায় ৩০ হাজার প্রজাতির মাছ, ১ হাজার ২৯৪ প্রজাতির পাখি, ৪২৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৪২৮ প্রজাতির উভচর এবং ৩৭৪ প্রজাতির সরীসৃপের বসবাস।

জগতে যত পাখি আছে, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ বসবাস করে দক্ষিণ আমেরিকার এই বনে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঈগল, টুকান, হোয়াটজিন, দ্রুতগামী হামিং বার্ড এবং রং-বেরঙের নাম না জানা আরও অনেক পাখি। বনের উল্লেখযোগ্য স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলো হলো- জাগুয়ার, গোলাপি ডলফিন, তামানডুয়া, তাপির, মানাতি, ইঁদুর, কাঠবিড়ালি, বাদুড় ইত্যাদি।

স্বাদু পানির অন্যতম বড় মাছ পিরারুকুর বসবাস অ্যামাজনের নদীতে। এ মাছটির ওজন প্রায় ১৫০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়াও মাংসাশী লাল পিরানহা ও বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক ঈল এখানে উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া রয়েছে কুমির, অ্যালিগেটর, কচ্ছপ প্রভৃতি।

উভচর প্রাণীর মধ্যে লাল চোখ বিশিষ্ট গেছ ব্যাঙের নাম না বললেই নয়। সরীসৃপের মধ্যে আছে বিখ্যাত সাপ ‘বোয়া’ যে তার শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে। এছাড়াও রয়েছে ‘অ্যানাকোন্ডা’ যার কথা কমবেশি সবাই শুনেছেন।

অ্যামাজনের জঙ্গল দীর্ঘদিন ধরে নানা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল। পত্রিকাটির মতে, ১৫০০ খৃষ্টাব্দের দিকে শুধু ব্রাজিলিয়ান আমাজনেই ৬০-৯০ লাখ লোকের বসবাস ছিল। কিন্তু, পশ্চিমা উপনিবেশায়নের সময় এদের অনেককেই হত্যা করা হয়, ফলে ১৯০০ শতকের দিকে সেখানে জনসংখ্যা নেমে এসেছিল মাত্র ১০ লাখে।

২০১১ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ব্রাজিলের অ্যামাজনে আদিবাসীর সংখ্যা কমে প্রায় ২.৫ লাখে দাঁড়িয়েছে, যারা ২১৫টি জাতিগোষ্ঠীতে বিভক্ত এবং তাদের মধ্যে প্রায় ১৭০ ধরনের ভাষার প্রচলন রয়েছে।

তবে, সমগ্র অ্যামাজন অঞ্চল জুড়ে প্রায় ৩৫০টিরও বেশি জাতিগোষ্ঠীর লোকেদের বসবাস। যাদের অনেকেই এখন শহরে বা শহর সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে, তবে জীবন নির্বাহের জন্য এরা এখনও অ্যামাজনের উপর নির্ভরশীল।

আশংকার কথা হলো, প্রতিদিন প্রায় একটি ফুটবল মাঠের সমান বনভূমি অ্যামাজনের জঙ্গল থেকে উজাড় হয়ে যাচ্ছে। বিজনেস ইনসাইডার জানাচ্ছে, শুধু ২০১৯ সালের জুলাই মাসে অ্যামাজন জঙ্গলের প্রায় ১,৩৪৫ কি.মি. বনভূমি ধ্বংস হয়ে গেছে। যা এক মাসে অ্যামাজনের সব থেকে বেশি বনভূমি উজাড় হয়ে যাওয়ার রেকর্ড। বনভূমি ধ্বংসের অন্যতম কারণ হলো অগ্নিকাণ্ড।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অগ্নিকান্ডের ফলে ‘অ্যামাজন জঙ্গলের বনভূমি উজাড়’ বিশ্ব জুড়ে আলোচনায় উঠে আসে। ১৫ই আগস্ট থেকে ভয়াবহ আগুনে পুড়ছে অ্যামাজনের জঙ্গল। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ব্রাজিলে প্রায় ৮০ হাজার আগুনের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর অর্ধেকেরও বেশি আগুনের ঘটনা ঘটেছে বিশ্বের মোট অক্সিজেনের ২০ শতাংশেরও বেশির যোগানদাতা এই জঙ্গলটিতে।

পেনিসিলভেনিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক জেমস এলকক বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন যে, অ্যামাজন জঙ্গল আগামী ৫০ বছরের মধ্যে বিলীন হয়ে যেতে পারে। অপরিকল্পিত বন নিধনই হবে এর কারণ।

তবে আশার কথা হলো, কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে অ্যামাজন বনভূমির সুরক্ষায় একত্রে কাজ করতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বলিভিয়া, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, গায়েনা, পেরু ও সুরিনাম। আর বিশ্ব জুড়ে পরিবেশ সচেতন মানুষের দাবি, পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবার আগেই বনটি সংরক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তথ্যসূত্র: ইউএসএ টুডে, ব্রিটানিকা.কম, উইকিপিডিয়া.কম, বিবিসি.কম।

 

টাইমস/এনজে/জিএস

ইতালিতে করোনায় প্রাণ হারালেন ১০০ চিকিৎসক

ইতালিতে করোনায় প্রাণ হারালেন ১০০ চিকিৎসক

মহামারী করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবায় ইতালি যেন মৃত্যুপুরী। এখনো থামছেনা মৃত্যুর

সন্ধ্যা ৬টার পর ঘরের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ

সন্ধ্যা ৬টার পর ঘরের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ

দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সন্ধ্যা ৬টার পর নাগরিকদের ঘরের বাইরে

করোনায় প্রাণ গেল আরও ৬ জনের

করোনায় প্রাণ গেল আরও ৬ জনের

দেশে গত ২৪ ঘন্টায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের

জাতীয়

সাধারণ ছুটি বাড়ল ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত

সাধারণ ছুটি বাড়ল ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত

মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। শুক্রবারের ঘোষণার মধ্য দিয়ে চতুর্থ দফায় সাধারণ ছুটি বাড়ানো হলো। এর আগে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আমহদ কায়কাউস সাধারণ ছুটি বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

জাতীয়

সিঙ্গাপুরে আরও ১১৬ বাংলাদেশী করোনায় আক্রান্ত

সিঙ্গাপুরে আরও ১১৬ বাংলাদেশী করোনায় আক্রান্ত

সিঙ্গাপুরে গত ২৪ ঘন্টায় ১১৬ প্রবাসী বাংলাদেশীসহ মোট ২৮৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের বাংলাদেশী প্রবাসীদের সংখ্যা গিয়ে দাড়াল ৩৬০ জনে। সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জাতীয়

করোনা : রাজধানীর মিরপুরে দুটি আবাসিক ভবন লকডাউন

করোনা : রাজধানীর মিরপুরে দুটি আবাসিক ভবন লকডাউন

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রাজধানীর মিরপুরে আরও দুটি আবাসিক ভবন লকডাউন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জাতীয়

রাজধানীতে আরও দুই সাংবাদিক করোনায় আক্রান্ত

রাজধানীতে আরও দুই সাংবাদিক করোনায় আক্রান্ত

রাজধানী ঢাকায় আরও দুইজন সাংবাদিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের এক সংবাদকর্মী করোনায় আক্রান্ত হন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে তিনজন সংবাদকর্মী প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য

করোনাভাইরাস : অ্যাজমা রোগীদের যা জানা প্রয়োজন

করোনাভাইরাস : অ্যাজমা রোগীদের যা জানা প্রয়োজন

নোভেল করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট কোভিড-১৯ রোগটির অন্যতম প্রধান উপসর্গ হলো- কফ ও শ্বাসকষ্ট। সাধারণ ঠাণ্ডা বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং অনেক সময় কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে। ফলে যাদের অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, রোগটি তাদের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা অ্যাজমার মতো দুরারোগ্য ব্যাধি রয়েছে, কোভিড-১৯তে আক্রান্ত হলে তাদের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি। তবে রোগটি অ্যাজমা রোগীদেরকে কিভাবে প্রভাবিত করবে কিংবা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায় কিনা, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

বিনোদন

প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ালেন সুজানা, দিলেন ১৫ দিনের খাবার!

প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ালেন সুজানা, দিলেন ১৫ দিনের খাবার!

মডেল অভিনেত্রী সুজানা জাফর। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকা পড়েছেন তিনি। পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক ছিল তখন সেখানে গিয়েছিলেন সুজানা, পরে আর ফিরতে পারেননি তিনি।