রামপুরায় মানবতাবিরোধী অপরাধ

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিলেন সিআইডির আলোকচিত্র বিশেষজ্ঞ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অষ্টম দিনের মতো সাক্ষ্য দিয়েছেন সিআইডির আলোকচিত্র বিশেষজ্ঞ গোলাম ইফতেখার আলম। ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজন এ মামলায় আসামি।

আজ (বৃহস্পতিবার) ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এদিন ১৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে নিজের জবানবন্দি দেন ইফতেখার। পুলিশের এসআই পদে সিআইডির আলোকচিত্র শাখায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি। সাক্ষ্যে এ মামলায় উদ্ধারকৃত আলামতের যাচাই-বাছাইয়ের বর্ণনা দেন এই কর্মকর্তা। পরে তাকে জেরা করেন পলাতক চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন ও গ্রেপ্তার চঞ্চল চন্দ্র সরকারের আইনজীবী সারওয়ার জাহান। পরে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন ফারুক আহাম্মদ, প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা।

এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। হাবিবুর ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। গত ১০ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এর আগে, ২৫ নভেম্বর জবানবন্দি দেন রুকুনুজ্জামান। তিনি ১২ নম্বর সাক্ষী ছিলেন। সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবে কর্মরত রয়েছেন এই পুলিশ পরিদর্শক। ১১ নভেম্বর সাক্ষ্য দিয়েছেন এএসআই (নিরস্ত্র) মো. বায়জীদ খান, এসআই (নিরস্ত্র) মো. শাহিন মিয়া ও ফরাজি হাসপাতালের স্টাফ নার্স লিংকন মাঝি। এর আগের দিন জবানবন্দি দেন দুজন। ৪ নভেম্বর পুলিশের এসআই মো. গোলাম কিবরিয়া খান ও তদন্ত সংস্থার সহকারী লাইব্রেরিয়ান কনস্টেবল আবু বকর সিদ্দিকের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ৩ নভেম্বর তৃতীয়-চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহীদ মো. নাদিম মিজানের স্ত্রী তাবাসসুম আক্তার নিহা ও প্রত্যক্ষদর্শী মো. ইয়াকুব। জবানবন্দিতে গত বছরের ১৯ জুলাই রামপুরার বনশ্রীতে পুলিশ-বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চালানো নৃশংস-নির্মমতার কথা ট্রাইব্যুনালের সামনে আনেন তারা।

গত ২৭ অক্টোবর দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন গুলিবিদ্ধ বাসিত খান মুসার বাবা মো. মোস্তাফিজুর রহমান। জবানবন্দিতে ১৯ জুলাই তার পরিবারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক বিবরণ তুলে ধরেন তিনি। নিজের চোখের সামনেই তার একমাত্র ছেলে মুসা গুলিবিদ্ধ হয়। একই বুলেটে শহীদ হন মা মায়া ইসলাম। বাচ্চা ছেলেটি বেঁচে থাকলেও কথা বলতে পারছে না। ফলে তছনছ হয়ে যায় তাদের পরিবারের সব স্বপ্ন। ২৩ অক্টোবর প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন কার্নিশে ঝুলে থাকা গুলিবিদ্ধ হওয়া আমির হোসেন।

চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ওই দিন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান। আসামিকে অভিযোগ পড়ে শোনান তিনি। এরপর নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন চঞ্চল। ১৬ সেপ্টেম্বর পলাতক চার আসামির পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। ১ সেপ্টেম্বর পলাতক চার আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল।

২৫ আগস্ট পলাতক আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের পক্ষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফর্মাল চার্জ) দাখিল করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। গত ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা।

পিএ/এসএন

Share this news on:

সর্বশেষ

ইরানি জনগণের স্বাধীনতা কামনা ইসরায়েলের Jan 12, 2026
রাজশাহীতে বিজিবির দেওয়া কম্বল পেয়ে যা বললেন সীমান্তপাড়ের মানুষ Jan 12, 2026
মার্কিন সামরিক হামলার কঠোর জবাব দেবে তেহরান: ইরানি স্পিকার Jan 12, 2026
৩ মিনিটে জেনে নিন গণভোট কী এবং কেন? Jan 12, 2026
মোসাব্বির হত্যার কারণ জানাল ডিবি Jan 12, 2026
শান্ত-ওয়াসিম ঝ-ড়ে ১৭৮ রান করেও পাত্তা পেলো না রংপুর Jan 12, 2026
img
দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট Jan 12, 2026
img
আসেন ওস্তাদ, আসেন: ছেলেকে উদ্দেশ্য করে মোহাম্মাদ নবি Jan 12, 2026
img

স্প্যানিশ সুপার কাপ

রোমাঞ্চকর এল ক্লাসিকোতে রিয়ালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ফের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা Jan 12, 2026
img

এফএ কাপ

ব্রাইটনের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় ম্যানইউর Jan 12, 2026
img
শেষ টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানকে হারিয়ে ১৩ বছরের অপেক্ষার অবসান শ্রীলঙ্কার Jan 12, 2026
img
নির্বাচন ও গণভোটের বার্তা নিয়ে কুমিল্লা-৫ আসনে ভ্রাম্যমাণ ‘ভোটের গাড়ি’ Jan 12, 2026
img
ফের মাগুরা উপনির্বাচনের ভুল কেউ করবে বলে মনে হয় না : রুমিন ফারহানা Jan 12, 2026
img
ইরানে চলমান বিক্ষোভে প্রাণহানি পাঁচ শতাধিক : মানবাধিকার সংস্থা Jan 12, 2026
img
আবারও পেছাল ব্রাকসু নির্বাচন Jan 12, 2026
img
ফাঁস হলো স্যামসাং গ্যালাক্সি S26 আল্ট্রার ডিজাইন: থাকছে বড় পরিবর্তন ও নতুন লুক Jan 12, 2026
img
বিক্ষোভকারীদের অনেকেই বিদেশি এজেন্টদের দ্বারা প্রশিক্ষিত : ইরান Jan 12, 2026
img
প্রশ্ন ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনায় ছাত্রশিবিরের উদ্বেগ প্রকাশ Jan 12, 2026
img
ছোট ভাই জন রুনির সাফল্যে আবেগাপ্লুত রুনি Jan 12, 2026
img
কৃতীর বোনের জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠানের অতিথি কারা? Jan 12, 2026