জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবার অংশগ্রহণে বামপন্থীদের নতুন জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট’এর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ জাসদ এর উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় কনভেনশন থেকে নতুন এ জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সকালে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে দিনব্যাপী কনভেনশনের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। কনভেনশনে দেশের বাম, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল উদারনৈতিক রাজনৈতিক দল, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, ছাত্র-শ্রমিক, কৃষক-নারী, ডাক্তার, আইনজীবী, কৃষিবিদ, প্রকৌশলী, স্থপতি, দলিত, হরিজন, সুফি, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ দেড় হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। কনভেনশনে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এবং পরিচালনা করেন বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা ডা. জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য্য।
কনভেনশনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী, ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাংবাদিক সোহরাব হোসেন, প্রকৌশলী মনির উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, ইউপিডিএফ নেতা অংকন চাকমা, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি এস এ সবুর, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ ভুইয়া, স্কপ নেতা আব্দুল কাদের হাওলাদার, জাতীয় গণফ্রন্ট নেতা আমিরুল নুজহাত মনীষা, কৃষকনেতা আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, অজেয় গণশক্তি ও গণসংগ্রামের মধ্যদিয়ে ’৫২, ’৬৯, ’৭১, ’৯০-এর ঐতিহাসিক বিজয় সম্ভব হলেও প্রতিবার সে বিজয় জনগণের হাতছাড়া হয়েছে। এবারও তেমনটাই ঘটছে। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ১৫ মাসের মাথায় এসে দেখা যাচ্ছে যে, এবারের বিজয়ও বহুলাংশে হাতছাড়া হতে চলেছে। অধিবেশনে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড খালেকুজ্জামান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পদাক কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা মিশু, সোনার বাংলা পার্টির আহ্বায়ক সৈয়দ হারুন, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসদু রানা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, গণতান্ত্রিক ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. হারুন অর রশীদ, নারী নেত্রী সীমা দত্ত, জলি তালুকদার, রুখশানা আফরোজ আশা, সাংস্কৃতিক ঐক্যের সমন্বয়ক মফিজুর রহমান লাল্টু, শ্রমিক নেতা শামীম ইমাম, জা. বি. প্রো ভিসি সোহেল আহমেদ, সুফি সৈয়দ মুহাম্মদ রায়হান শাহ, শিপন রবিদাস প্রমুখ।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, যুক্তফ্রন্ট গঠন আজ খুবই জরুরি। তবে এই যুক্তফ্রন্ট শুধু নির্বাচনের জন্য নয়, সমাজ বিপ্লবীদের যুক্তফ্রন্ট গড়ে তুলতে হবে। জাতীয়তাবাদীরা ৫৪ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় আছে তারা জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেনি। ফলে বাম-প্রগতিশীলদের আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হলে। বারে বারে মানুষ জীবন দেয় নির্যাতন ভোগ করে কিন্তু ক্ষমতায় যায় বুর্জোয়ারা। ফলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। তিনি বিপ্লবের জন্য সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন।
ইউটি/টিএ