ভেনেজুয়েলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকাশসীমা-সংক্রান্ত মন্তব্যকে ‘ঔপনিবেশিক হুমকি’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে লিখেছেন, ভেনেজুয়েলার ওপর ও আশপাশের আকাশসীমাকে “সম্পূর্ণভাবে বন্ধ” হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রাম্পের বক্তব্য ভেনেজুয়েলাবাসীর বিরুদ্ধে “অন্য আরেকটি অদ্ভুত, বেআইনি ও অযৌক্তিক আগ্রাসন”। যুক্তরাষ্ট্রের অন্য দেশের আকাশসীমা বন্ধ করার কোনো আইনগত অধিকার নেই বলেও উল্লেখ করেছে তারা। তবে এই ধরনের বক্তব্য যাত্রী পরিবহন ও এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে মাদকবিরোধী তৎপরতার অংশ। তবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলছেন, এটি তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার অজুহাত।
গত সপ্তাহে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ঘিরে “সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার” বিষয়ে সতর্কতা জারি করে। এর মধ্যেই ট্রাম্পের নতুন মন্তব্য আসে।
ভেনেজুয়েলা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে তাদের সাপ্তাহিক অভিবাসী প্রত্যাবাসন ফ্লাইট স্থগিত করেছে। এ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি “এই অনৈতিক আগ্রাসন” প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, বুধবার ভেনেজুয়েলা ছয়টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স আইবেরিয়া, টিএপি পর্তুগাল, গোল, লাতাম, অ্যাভিয়ানকা ও তুর্কিশ এয়ারলাইন্স এর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম মানতে তারা ব্যর্থ হওয়ায় এসব এয়ারলাইন্সকে অবতরণে নিষেধ করা হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ এবং প্রায় ১৫ হাজার সৈন্য ভেনেজুয়েলার নিকটবর্তী অঞ্চলে মোতায়েন করেছে। ১৯৮৯ সালে পানামা আক্রমণের পর এটাই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক মোতায়েন। ওয়াশিংটন বলছে, এটি মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ।
ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, খুব শিগগিরই ভেনেজুয়েলার স্থলভাগে মাদক পাচার ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুরু হবে। এরই মধ্যে মার্কিন বাহিনী মাদকবাহী বলে দাবি করা নৌকায় কমপক্ষে ২১টি হামলা চালিয়েছে, যেখানে ৮০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে। তবে এসব নৌকায় মাদক ছিল এর কোনো প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ করেনি।
মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর উদ্দেশ্যে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করছে কারাকাস। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ‘কার্টেল দে লস সোলে’ নামের একটি গোষ্ঠীকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে, যাকে ওয়াশিংটন মাদুরোর নেতৃত্বাধীন বলে দাবি করে। তবে ভেনেজুয়েলার সরকার এই অভিযোগকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো, যাকে ওই তথাকথিত কার্টেলের উচ্চপর্যায়ের সদস্য বলে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ তুলেছে, বহুদিন ধরে একে “মনগড়া গল্প” বলে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তর এসব অভিযোগের পক্ষে বলছে, এই গোষ্ঠী ভেনেজুয়েলার সামরিক, গোয়েন্দা, আইনসভা ও বিচারব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত করেছে।
এসএস/টিকে