দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট আবারও উঠল ফ্লামেঙ্গোর মাথায়। শনিবার রাতে লিমার এস্তাদিও মনুমেন্টালে পালমেইরাসকে ১-০ গোলে হারিয়ে ক্লাবটি জিতেছে এবারের কোপা লিবার্তাদোরেস। এই জয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ব্রাজিলিয়ান দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরো সুসংহত করল রিও ডি জেনেইরোর জায়ান্টরা। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে দ্বিতীয়ার্ধে।
৬৭তম মিনিটে জর্জিয়ান দে আরাস্কায়েতার কর্নার থেকে উঠে আসা হেডে জাল খুঁজে নেন ডিফেন্ডার দানিলো। পালমেইরাসের রক্ষণভাগ তাকে অবাক করাভাবে একদম ফাঁকা ছেড়ে দিলে সহজেই গোলটি করেন তিনি। ফাইনালটিতে উত্তেজনা ছিল দেখার মতো। পুরো ম্যাচে ৩৩টি ফাউল, সাতটি হলুদ কার্ড, দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বারবারই দেখা গেছে তীব্র ধাক্কাধাক্কি।
প্রথমার্ধে ফ্ল্যামেঙ্গো কিছু সুযোগ তৈরি করলেও গোল পায়নি। ব্রুনো হেনরিকে ও সামুয়েল লিনো দু’জনই কাছাকাছি গিয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন।
৩০তম মিনিটে ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। পালমেইরাস ডিফেন্ডার ব্রুনো ফুকস আরাস্কায়েতাকে আঘাত করলে দুই দলের খেলোয়াড়রা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ফ্লামেঙ্গোর চিলিয়ান তারকা এরিক পুলগার প্রতিপক্ষকে লাথিও মারেন। তবু তিনি অবিশ্বাস্যভাবে কেবল হলুদ কার্ড দেখে রক্ষা পান। যা নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়েছে ম্যাচ শেষেও।
শেষ মুহূর্তে পালমেইরাসের ছিল সমতায় ফেরার সোনালি সুযোগ। কিন্তু ৮৯তম মিনিটে ভিতোর রোকে একেবারে সামনে থেকে অরক্ষিত পোস্টে বলটি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে উড়িয়ে মারেন।সেই সুযোগই ছিল ম্যাচের সবচেয়ে বড় ভুল, যা দলটিকে শিরোপা স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত করেছে।
এই জয়ে ২০১৯ সালের পর তৃতীয়বার এবং মোট চতুর্থবারের মতো লিবার্তাদোরেস ট্রফি জিতল ফ্লামেঙ্গো। এতে তারা আর্জেন্টিনার এস্তুদিয়ান্তেসের সমান হলো; আর তাদের ওপরে রয়েছে কেবল ইন্ডিপেন্দিয়েন্তে (৭ শিরোপা)।
বছরের শুরুতে ব্রাজিলিয়ান সুপার কাপ জিতে ইতোমধ্যেই নিজেদের আধিপত্য দেখিয়েছে ফ্লামেঙ্গো। লিগে বাকি দুটি ম্যাচে মাত্র দুই পয়েন্ট পেলেই ঘরোয়া শিরোপাও নিশ্চিত হবে অর্থাৎ ২০২৫ সালে সম্ভাব্য ‘ট্রেবল’-এর স্বপ্ন এখন তাদের হাতের নাগালেই।
এসএস/টিকে