আবার মাইনাস-টু প্রজেক্ট, তৎপর ডিপ স্টেট : মাসুদ কামাল

সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে আজ দেশের মানুষ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। উনার স্বাস্থ্য নিয়ে, উনার জীবন নিয়ে। গতকাল আমি বলেছিলাম, উনার একমাত্র জীবিত পুত্র তারেক রহমান দেশে আসছেন না কেন? মায়ের কাছে থাকার জন্য, মাকে দেখার জন্য কেন তিনি দেশে ফিরছেন না? প্রশ্ন আসে, যখন মা এতটাই সংকটাপন্ন তখন তারেক রহমান দেশে ফিরছেন না কেন? তারেক রহমানের না ফেরার পেছনে কি ডিপ স্টেট? এই না আসার পেছনে কি ডিপ স্টেটের কোনো ভূমিকা থাকতে পারে? ডিপ স্টেট এটা আসলে কী? এই আলোচনা এখন করতে হয়তো বাধ্য হচ্ছি।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে মাসুদ কামাল এসব কথা বলেন।

মাসুদ কামাল বলেন, বিএনপির নেতাদের সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছেন তারেক রহমান কেন ফিরছেন না? বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারেক রহমানের ফেসবুক স্ট্যাটাসেই সব ব্যাখ্যা আছে, এর বাইরে কিছু বলার নেই। আমি আবার সেই স্ট্যাটাস পড়লাম। তিনি (তারেক রহমান) লিখেছেন-এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহস্পর্শ পাওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা, তা আমারও রয়েছে। কিন্তু বিষয়টি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত কিংবা একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।

আরো লিখেছেন-স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার সুযোগ সীমিত। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছালেই আমার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটবে।

তিনি আরো বলেন, সরকার বলছে, কোনো বাধা নেই। তারেক রহমানের স্ট্যাটাস প্রকাশের কিছুক্ষণ পরেই সরকারের প্রেস সেক্রেটারি ঘোষণা করলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরায় সরকারের কোনো বাধা বা আপত্তি নেই।

আজ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন-‘তিনি যদি আজ সিদ্ধান্ত নেন, আমরা কালই ট্রাভেল পাস দেব। পরশু তিনি দেশে ফিরতে পারবেন।’
তাহলে জটিলতাটা কোথায়?

মাসুদ কামাল বলেন, কদিন আগে সজীব ওয়াজেদ জয় বিবিসি বাংলাকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, বাংলাদেশের দুই বড় রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার জন্য বিদেশ থেকে একটি অগণতান্ত্রিক তৎপরতা চলছে। জয়ের মতে, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ-দুটো দলেরই শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিয়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার একটি খেলা চলছে।

তিনি এটাও ইঙ্গিত করেছেন যে এই পুরো প্রক্রিয়াটি দেশীয় নয়; বরং এর নেপথ্য পরিচালনা বিদেশ থেকেই হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা হয়তো বাইরে থেকে দেখলে এর ভিত্তি ধরতে পারি না। আমাদের চোখে দৃশ্যমান কোনো ঘটনা নেই। কিন্তু যাদের হাতে রাষ্ট্রের ভেতরের তথ্য বেশি থাকে, যারা কূটনৈতিক যোগাযোগের ভেতরের গতিবিধি বুঝতে পারেন, তারা হয়তো কোনো তথ্য বা ইশারা দেখেই এমন আশঙ্কা করছেন। যেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি না, তারা হয়তো সেটাই উপলব্ধি করছেন।

মাসুদ কামাল বলেন, সরকার বলছে তারেক রহমানের দেশে ফেরায় কোনো বাধা নেই। রাষ্ট্র যন্ত্রের বিভিন্ন স্তর থেকেও বলা হচ্ছে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আইনি জটিলতাও নেই, কারণ ট্রাভেল পাস একদিনেই দেওয়া সম্ভব। দৃশ্যমানভাবে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই, কোনো শক্ত বাধাও নেই। তারপরও একটা অদৃশ্য বাধা যেন কাজ করছে। যেন কোথাও কিছু আটকে আছে, যার কোনো দৃশ্যমান ব্যাখ্যা নেই।

এই অদৃশ্য বাধাই ডিপ স্টেটের বৈশিষ্ট্য। ডিপ স্টেট এমন একটি শক্তি, যাকে দেখা যায় না, কিন্তু যে আড়াল থেকে ঘটনাপ্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে। তার উপস্থিতি প্রকাশ্যে প্রমাণ করা যায় না, আবার একেবারে অস্বীকারও করা যায় না। এটি এমন একটি শক্তি, যার কর্মকাণ্ডে কোনো জবাবদিহিতা নেই, কিন্তু যার সিদ্ধান্তের প্রভাব রাষ্ট্রের ওপর পড়ে। নির্দেশ কখনো আসে অজানা উৎস থেকে, আবার যারা নির্দেশ পালন করে তারাও প্রায়শই জানে না তারা কার স্বার্থ পূরণ করছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে ‘আয়না ঘর’-এর কথা আমরা শুনেছি, মানুষ হঠাৎ করে হারিয়ে যেত। পুলিশ বলত, তারা নেয়নি। র‌্যাব বলত, তারাও নেয়নি। কিন্তু মানুষটা কোথায় গেল, সেটার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যেত না। কারা নিয়েছে, কেন নিয়েছে, কোথায় রেখেছে -সবই অদৃশ্য। অথচ ঘটনাটা ঘটত। এই অদৃশ্য শক্তির কার্যকারিতাই ছিল ডিপ স্টেটের উপস্থিতির প্রমাণ। আজও সেই অদৃশ্য শক্তি কোথাও না কোথাও ভূমিকা রাখছে বলেই মনে হচ্ছে। না হলে সরকারের কোনো আপত্তি নেই, রাষ্ট্রের কোনো বাধা নেই, আইনের কোনো জটিলতা নেই-তার পরও কেন তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না? কেন তিনি নিজেও বলছেন যে এটি তার একক সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়? কেন তিনি “স্পর্শকাতর বিষয়” বলে সব ব্যাখ্যা এড়িয়ে যাচ্ছেন?

এই প্রশ্নগুলোই ইঙ্গিত করে যে দৃশ্যমান রাজনীতি নয়, অদৃশ্য রাজনীতিই বর্তমানে বেশি সক্রিয়। আবারও কি সেই মাইনাস-টু ফর্মুলা নতুন রূপে ফিরে আসছে? আবারও কি দুই পরিবারকে রাজনীতি থেকে সরানোর পরিকল্পনা চলছে? আর সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ কি তারেক রহমানের দেশে ফেরা থামিয়ে রাখা? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর আমরা হয়তো খুব শিগগিরই পেয়ে যাব। তবে আমার উপলব্ধি ডিপ স্টেট এই মুহূর্তে বাংলাদেশে অত্যন্ত সক্রিয় এবং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।

পিএ/টিএ 

Share this news on:

সর্বশেষ

img
লোকজন কী সুন্দর বিয়ে করছে, আমি একটা প্রেমও করতে পারছি না : শ্রীলেখা Dec 01, 2025
img
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব ফিরোজ সরকার Dec 01, 2025
img
জামায়াত সব সময় বিশ্বাসঘাতকতা করেছে : কাজী আলাউদ্দিন Nov 30, 2025
img
দেশ ও জাতির জন্য খালেদা জিয়ার সুস্থতা দরকার : গোলাম পরওয়ার Nov 30, 2025
img
আবার মাইনাস-টু প্রজেক্ট, তৎপর ডিপ স্টেট : মাসুদ কামাল Nov 30, 2025
img
খালেদা জিয়া কিছুটা ভালোর দিকে আছেন: উপদেষ্টা মাহফুজ Nov 30, 2025
img
বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে আজহারীর আবেগঘন স্ট্যাটাস Nov 30, 2025
img
সংক্রান্তি ২০২৬-এ প্রভাসের নতুন ব্লকবাস্টার 'রাজা সাব' Nov 30, 2025
img

প্লট বরাদ্দ

শেখ হাসিনা, রেহানা ও টিউলিপের বিরুদ্ধে মামলার রায় সোমবার Nov 30, 2025
img
খালেদা জিয়া ক্ষমতার চেয়ে গণতন্ত্রকেই বড় করে দেখেছেন : আমিনুল হক Nov 30, 2025
img
খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে তামিম Nov 30, 2025
img
সমুদ্রে অবৈধ মৎস্য আহরণে মাছের সংস্থান কমে যাচ্ছে : মৎস্য উপদেষ্টা Nov 30, 2025
img
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক যদি ভালো হয়ে থাকে, ভালো হয়েছে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Nov 30, 2025
img
প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে Nov 30, 2025
img
গুলশানে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল Nov 30, 2025
img
খালেদা জিয়ার আপোসহীন নেতৃত্বের কারণে হাসিনার পতন হয়েছে : খোকন Nov 30, 2025
img
১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম রুটে সি ট্রাক চালু : উপদেষ্টা ফাওজুল Nov 30, 2025
img
‘মাটির পিঞ্জিরা' নিয়ে হাজির লিটা সরকার Nov 30, 2025
img
লিবিয়া থেকে ১৭৩ বাংলাদেশি প্রত্যাবাসন, সোমবার সকালে দেশে ফিরবেন Nov 30, 2025
img

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি কাল Nov 30, 2025