শিক্ষিত মানুষের নীরবতা আপসেরই শামিল: শিক্ষা উপদেষ্টা

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেছেন, আমি কোনো দল করি না, আমি নিরপেক্ষ- শিক্ষিত মানুষের এমন অবস্থান গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অন্যায় যখন সংঘটিত হয়, তখন অবশ্যই একটি অবস্থান নিতে হয়। শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে চিন্তা করলে শুরুতেই আমাদের সামনে ভেসে ওঠে অধ্যাপক ড. সামসুজ্জোহা স্যারের আত্ম বলিদানের কথা। তার ত্যাগ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় শিক্ষার প্রকৃত নিরপেক্ষতা ও দায়বদ্ধতার নাম। জ্ঞান দায়িত্বের সৃষ্টি করে, আর যখন সমাজ অন্যায়ের মুখোমুখি হয়, তখন শিক্ষিত মানুষের নীরবতা আপসেরই শামিল। ড. শামসুজ্জোহা তার জীবন দিয়ে আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়ে গেছেন। তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি নাগরিক মর্যাদাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দ্বাদশ সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের সমাবর্তনে ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী ১২টি অনুষদের মোট ৫ হাজার ৯৬৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ৭৯ জনকে পিএইচডি, ১১ জনকে এমফিল এবং ৭৪০ জনকে এমবিবিএস ডিগ্রি প্রদান করা হয়। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের প্রগতির পথে পরিচিত করেছে। সংস্কৃতি, রাজনীতি, বৈষম্যবিরোধী চেতনা ও দক্ষতার বিকাশ, সব কিছুর সূচনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই হয়। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, আমরা কতটুকু সেই দায়িত্ব পালন করতে পারছি? বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করা। বিগত ১৭ বছরের মতো পরিস্থিতি যেন ভবিষ্যতে আর তৈরি না হয়, সে জন্য শিক্ষার্থীদের সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট হিসেবে দেশ ও সমাজের জন্য সক্রিয় ও ইতিবাচক অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি।

রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, দেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সব ক্ষেত্রে নতুন ও অর্থবহ অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করেছে। এই সময়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার পক্ষে উচ্চমানের মানবসম্পদ অত্যন্ত প্রয়োজন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সেই লক্ষ্যেই শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শুধু বিষয়জ্ঞানই দেয়নি, বরং চরিত্র গঠন, প্রশ্ন করার সাহস, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মানসিকতা তৈরি করেছে। নানা অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় ও হাল না ছাড়ার মানসিকতাই তাদের বড় অর্জন। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই বিশ্বে প্রযুক্তিগত বিপ্লব, জলবায়ু পরিবর্তন ও সামাজিক রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিগ্রির পাশাপাশি প্রয়োজন নীতিবান নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তা ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব। এ জন্য তিনি স্নাতকদের সাহসী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও কর্মে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আইকে/টিএ

Share this news on:

সর্বশেষ

img
শাহরুখ-হৃতিকের ‘তিক্ত’ সম্পর্কের মাঝেই মুখোমুখি ২ তারকা! Feb 01, 2026
img
মুস্তাফিজের পর পিএসএল নিলামে নিবন্ধন করলেন সাকিব Feb 01, 2026
img
নোয়াখালীতে যুবশক্তির নেতার বিএনপিতে যোগদান Feb 01, 2026
img
নারী ইস্যুতে দলের অবস্থান জানালেন জামায়াত আমির Feb 01, 2026
img
আপিল বিভাগেও প্রার্থীতা বাতিল হল কুমিল্লার গফুর ভূঁইয়ার Feb 01, 2026
img
গণতন্ত্রের রূপকার খালেদা জিয়া, বাহক তারেক রহমান: বুলু Feb 01, 2026
img
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বৈঠক, ইরানে মার্কিন হামলার পক্ষে সৌদি আরব! Feb 01, 2026
img
বিচ্ছেদ পরবর্তী জীবন নিয়ে মুখ খুললেন অনুশ্রী দাস! Feb 01, 2026
img
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বিক্রি হয়েছে ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য Feb 01, 2026
img
জাতীয় দলের নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তি, থাকছে না ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরি Feb 01, 2026
img
সিইসির সঙ্গে বিএনপির বৈঠক দুপুরে Feb 01, 2026
img
আজ থেকে স্বর্ণের দাম নতুন করে নির্ধারণ করল বাজুস Feb 01, 2026
img
রাজশাহীতে মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ছেলে আটক Feb 01, 2026
img
সালমানের পর এবার রোহিত শেঠির বাড়িতে হামলা! Feb 01, 2026
img
হিন্দু ভাইদের পেলে মনে হয় অনেক দিন থেকে চিনি: আমির হামজা Feb 01, 2026
img
প্রিমিয়ার লিগে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে সালাহর আরেকটি রেকর্ড Feb 01, 2026
img
মঞ্জুরুলের প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা, নির্বাচনে সুযোগ নেই Feb 01, 2026
img
অভিযোগ থাকার পরেও কেন ছোটপর্দায় অভিনেত্রীরা? Feb 01, 2026
img
নির্বাচনে বাঁধা নেই কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির মোবাশ্বের আলমের Feb 01, 2026
img
বড়পর্দায় আসছে ‘নাগিন’ Feb 01, 2026