সিরিয়ায় বড় পরিসরে হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন সামরিক বাহিনী সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএস)-এর ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, তাদের সেনাদের ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট সিরিয়ায় আইএসআইএস সন্দেহভাজনদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালিয়ে আসছিল, যেখানে প্রায়ই সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীরাও অংশ নিয়েছে।

গত সপ্তাহে সিরিয়ায় সন্দেহভাজন আইএসআইএস হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, হামলাগুলোতে আইএসআইএস যোদ্ধা, অবকাঠামো ও অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করা হয়েছে এবং এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন হকআই স্ট্রাইক। তিনি বলেন, এটি কোনো যুদ্ধের সূচনা নয়—এটি প্রতিশোধের ঘোষণা। আজ আমরা আমাদের শত্রুদের শিকার করেছি এবং হত্যা করেছি এবং আমরা এটি চালিয়ে যাবো।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, সিরিয়ার সরকার এই হামলাগুলো পুরোপুরি সমর্থন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র খুবই কঠোর প্রতিশোধ নিচ্ছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মধ্য সিরিয়াজুড়ে ৭০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা চালানো হয়েছে। এতে এফ-১৫ ও এ-১০ যুদ্ধবিমান, অ্যাপাচি হেলিকপ্টার এবং হিমার্স রকেট সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিরিয়া তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং নিশ্চিত করবে যেন দেশটির ভূখণ্ডে গোষ্ঠীটির কোনো নিরাপদ আশ্রয় না থাকে।

বর্তমানে সিরিয়ায় প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।

বর্তমানে সিরিয়ার সরকার পরিচালিত হচ্ছে সাবেক বিদ্রোহীদের দ্বারা, যারা ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের পর গত বছর প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এই সরকারে সিরিয়ার সাবেক আল-কায়েদা শাখার সদস্যরাও রয়েছেন, যারা পরে সংগঠনটি ছাড়ে এবং ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সিরিয়া সহযোগিতা করে আসছে। গত মাসে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা হোয়াইট হাউজ সফর করলে এ বিষয়ে একটি সমঝোতাও হয়।


ইউটি/টিএ

Share this news on:

সর্বশেষ

img
মোদিকে ঘিরে নজিরবিহীন হট্টগোল, সংসদে বিরোধী নেতাদের তুমুল বিক্ষোভ Feb 04, 2026
img
১৫ বছর আমাদের ওপর এতো জুলুম হওয়ার পরেও আমরা ছেড়ে যাইনি : জামায়াত আমির Feb 04, 2026
img
নির্বাচনী সফরে ফের উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন তারেক রহমান Feb 04, 2026
img
সরকারে এলে পাহাড়ি-বাঙালি রেষারেষি বন্ধ করবো : জামায়াত আমির Feb 04, 2026
img
পুতিনের সঙ্গে ভিডিও কল, অতঃপর ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ শির Feb 04, 2026
img
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি : জামায়াত আমির Feb 04, 2026
img
সারজিস আলমকে জরিমানা Feb 04, 2026
img
কর্মজীবী মায়েদের কর্মঘণ্টা হবে ৫, বাকি ৩ ঘণ্টার ভর্তুকি দেবে সরকার: জামায়াত আমির Feb 04, 2026
img
মুনমুন সেন কেন মহানায়িকার ব্যর্থ উত্তরসূরি? Feb 04, 2026
img
১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাত কর্মের হাতে পরিণত হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ Feb 04, 2026
img
‘ধুরন্ধর ২’-তে কি সালমান থাকছেন? বলিউডে জোর গুঞ্জন Feb 04, 2026
img
বিএনপির রাজনীতির মূল শক্তি জনগণ : আমানউল্লাহ আমান Feb 04, 2026
img
একটি অশুভ চক্র নির্বাচনের পরিবেশ নষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে: আমিনুল হক Feb 04, 2026
img

নির্বাচনী ইশতেহার

ক্ষমতায় গেলে রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান করবে জামায়াতে ইসলামী Feb 04, 2026
img
শুটিংয়ে গর্ভপাত হয়েছিল অর্চনা পূরণ সিং-এর! Feb 04, 2026
img
খেলাফত মজলিসের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান Feb 04, 2026
img
'ব্যালটের সিল বানানোর ঘটনায় জড়িত জামায়াতের নেতা' - আদালতে স্বীকারোক্তি Feb 04, 2026
img

নির্বাচনী ইশতেহার

মুসলিম পার্সোনাল ‘ল’ প্রণয়ন ও হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চের প্রতিশ্রুতি জামায়াতের Feb 04, 2026
img
আবারও বিএনপির ৩ নেতার জন্য এলো সুখবর Feb 04, 2026
img
জামায়াতের জোট ছাড়ার স্পষ্ট কারণ জানালেন চরমোনাই পীর Feb 04, 2026