তারকামুখী রাজনীতির ছবিটা পশ্চিমবঙ্গে নতুন নয়। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই উৎসব, অনুষ্ঠান, মঞ্চ সবখানেই বিনোদন জগতের পরিচিত মুখেদের উপস্থিতি চোখে পড়েছে। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। সামনে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই আবারও জোরাল প্রশ্ন, এ বারও কি তারকাদের ঢল নামবে রাজনীতির ময়দানে?
গত বছরের একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে নজর কেড়েছিল বহু পরিচিত মুখের সক্রিয় উপস্থিতি। কেউ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলেন, কেউ আবার দীর্ঘদিন পর ঘরে ফেরার বার্তা দিয়েছেন। বছর শেষ হতে না হতেই নতুন দলে যোগ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এই সব সূত্র ধরেই রাজনৈতিক অন্দরে জল্পনা, আগামী নির্বাচনে কোন কোন অভিনেতা, অভিনেত্রী বা শিল্পী প্রার্থী হিসেবে সামনে আসতে পারেন।
এই তালিকায় প্রথমেই উঠে আসে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম। মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অভিনেত্রী একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে দীর্ঘ সময় উপস্থিত ছিলেন। তাঁর স্বামী রাজ চক্রবর্তী নিজে বিধায়ক হওয়ায় জল্পনা আরও বেড়েছে। যদিও শুভশ্রী বারবার বলেছেন, রাজনীতি তাঁর পথ নয়। তবু মঞ্চে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি নানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নতুন নয়। দলীয় পতাকা হাতে নেওয়ার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই তাঁর নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অভিজ্ঞতা থাকায় এ বার তাঁকে নিয়ে জল্পনা আরও জোরদার।
ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ তৃণা সাহা নিজে বারবার অভিনয়েই মন দেওয়ার কথা বলেছেন। তবু মুখ্যমন্ত্রীর প্রায় সব অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি, দলের অন্দরমহলে তাঁর নামকে আলোচনায় রেখেছে। রাজনীতির সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার কথা বললেও তাঁকে ঘিরে জল্পনা থামেনি।
বছরের শেষ দিকে সবচেয়ে বড় চমক পার্নো মিত্র। দলবদলের পর থেকেই তাঁকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক হিসেবনিকেশ শুরু হয়েছে। আগের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় এ বার তাঁর নাম সম্ভাব্য তালিকায় জোরের সঙ্গে ঘুরছে।
সংগীত জগত থেকেও উঠে এসেছে ইমন চক্রবর্তীর নাম। রাজ্য সরকারের নানা অনুষ্ঠানে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। উন্নয়নের গান গেয়ে জনপ্রিয় হওয়া এই শিল্পীকে রাজনীতির মঞ্চে দেখা যাবে কি না, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সঙ্গে যুক্ত অভিনেত্রী সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্সীর নামও শোনা যাচ্ছে। নিজে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দল চাইলে তিনি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। তাঁর সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যদের নামও ঘুরছে আলোচনায়।
রূপাঞ্জনা মিত্রের ঘরে ফেরাও নজর এড়ায়নি। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতির পর থেকেই তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ভাবা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে, যদিও তিনি নিজে এই নিয়ে নীরব।
এ ছাড়াও সৌমিতৃষা কুন্ডু, ভিভান ঘোষ, রিমঝিম মিত্র—এই নামগুলোও ঘুরেফিরে উঠে আসছে রাজনৈতিক জল্পনায়। সব মিলিয়ে বিনোদন আর রাজনীতির সংযোগ যে আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে, তা বলাই যায়।