এক দশক পর ছোট পর্দায় রণিতা দাসের প্রত্যাবর্তন

সম্পর্কের ভাঙন, ব্যক্তিগত ক্ষতি আর আত্মসংগ্রামের ভেতর দিয়েই রণিতা দাসের জীবনে কেটেছে গত বছরটি। তাঁর জীবনে দুই হাজার পঁচিশ এমন এক অধ্যায় হয়ে এসেছে, যা একদিকে তাঁকে ভেঙেছে, অন্যদিকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছে। এই সময়টাই তাঁকে শিখিয়েছে ছেড়ে দেওয়ার মানে, আত্মসমর্পণের ভাষা আর জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞ হয়ে ওঠার পাঠ।

বছর শেষের মুখে সামাজিক মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে রণিতা লিখেছেন, এই বছর শুরু হয়েছিল একেবারে নীরব লড়াই দিয়ে। এমন কিছু ক্ষতির মুখোমুখি তাঁকে হতে হয়েছে, যা তাঁর জীবনে গভীর শূন্যতা তৈরি করে। এমন সময়ও এসেছে, যখন নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। তবে সেই অন্ধকার পথ পেরিয়েই তিনি বুঝেছেন আত্মসমর্পণের প্রকৃত অর্থ।

অভিনেত্রীর কথায়, ধীরে ধীরে তিনি উপলব্ধি করেছেন, তাঁর হাতে আসলে কিছুই নেই। দাবি করার মতোও কিছু নেই। প্রতিটি দিনই এক একটি উপহার। যে খাবার তিনি খান, যে পোশাক পরেন, যে কাজ তাঁকে টিকিয়ে রাখে কিংবা মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পান সবকিছুকেই তিনি ঈশ্বরের করুণা বলেই মনে করেন।



রণিতা আরও জানিয়েছেন, এখন তাঁর একমাত্র চেষ্টা নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করা। যাদের তিনি ভালোবাসেন, তাঁদের যত্ন নেওয়া এবং সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে আচরণ করাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের সবটুকু ঈশ্বরের হাতে সমর্পণ করেই তিনি সামনে এগোতে চান, এই বিশ্বাসই তাঁকে শক্তি জোগায়।

এই আত্মউপলব্ধির সময়ের মধ্যেই দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন রণিতা দাস। প্রায় এক দশক পর তাঁকে আবার দেখা যাচ্ছে ছোট পর্দায়। স্টার জলসার মেগা ধারাবাহিক ‘ও মন দরদিয়া’-তে ‘বাণী’ চরিত্রে তাঁর প্রত্যাবর্তন দর্শকের নজর কাড়ছে। সম্প্রতি ধারাবাহিকের সেটেই সহকর্মীদের সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করতেও দেখা গেছে তাঁকে।

উল্লেখ্য, স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ধন্যি মেয়ে’ দিয়ে অভিনয়জগতে পথচলা শুরু করেছিলেন রণিতা। ‘বাহা’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে আছে।

ম্যাজিক মোমেন্টের ‘ইষ্টি কুটুম’ তাঁকে এনে দিয়েছিল ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তবে মাঝপথে নানা ব্যক্তিগত কারণে তাঁকে কাজ থেকে সরে যেতে হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর ফের ক্যামেরার সামনে ফিরে এসে আবারও নিজের জায়গা শক্ত করার লড়াইয়ে রণিতা দাস, যেখানে জীবনের অভিজ্ঞতাই তাঁর সবচেয়ে বড় সম্বল।

এমকে/এসএন

Share this news on:

সর্বশেষ

img
কাসেম সোলেইমানির দেখানো পথ অনুসরণ করে যাব: পেজেশকিয়ান Jan 02, 2026
img
বিশ্বকাপ দলে থাকছে না জাকের আলী! Jan 02, 2026
img
পুরুষ সহশিল্পীকে হেনস্তার অভিযোগে যৌন কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল উইল স্মিথের Jan 02, 2026
img
তিন ম্যাচে কোনো গোল না করেই নকআউটে সুদান! Jan 02, 2026
img
এনসিপি নেতা আরিফের বছরে আয় ৩ লাখ ৩০ হাজার Jan 02, 2026
img
একটি ভালো নির্বাচন উপহার দেবে সরকার: প্রেস সচিব Jan 02, 2026
img
কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস Jan 02, 2026
img
সাইবার সেলে অভিযোগ জাভেদ আখতারের Jan 02, 2026
img
ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকার ৯ ফ্লাইট নামল চট্টগ্রাম কলকাতা ব্যাংককে Jan 02, 2026
img
৩য় বারের মতো বিপিএল ইতিহাসে সুপারভার Jan 02, 2026
img
শান্তর ব্যাটে নিয়মিত রান, কী বললেন হান্নান সরকার? Jan 02, 2026
img
ডেথ ওভারে মুস্তাফিজকে মিস করেছেন মোহাম্মদ নবী Jan 02, 2026
img
আগামী ৩ দিনের মধ্যে রাজধানী থেকে সব ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে ফেলবে বিএনপি Jan 02, 2026
img
শিবচরে ঘন কুয়াশায় এক্সপ্রেসওয়েতে ৩ গাড়ির সংঘর্ষ, আহত ১০ Jan 02, 2026
img
নতুন বছরে ভক্তদের জন্য সুখবর দিলেন অভিনেত্রী জয়া আহসান! Jan 02, 2026
img
আগামী পাঁচদিন অব্যাহত থাকবে কুয়াশা ও শীতের প্রভাব Jan 02, 2026
img
ডিজনির ‘জুটোপিয়া টু' সবচেয়ে ব্যবসাসফল সিনেমা Jan 02, 2026
img
কোন কারণে চাকরি ছাড়লেন পাকিস্তানের কোচ গিলেস্পি? Jan 02, 2026
img
স্থগিত হওয়া প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা Jan 02, 2026
img
ধুরন্ধর সিনেমা বানানোকে 'বোকামি' বলে মন্তব্য নির্মাতার Jan 02, 2026