একটার পর একটা বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না পরিচালক ও অভিনেতা রাজ চক্রবর্তীর। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর নতুন ছবি হোক কলরব-এর টিজার ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সামাজিক মাধ্যম। টিজারের একটি সংলাপকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। সেখানে পুলিশ অফিসারের চরিত্রে শাশ্বত বলছেন, আমি ক্ষুদিরাম চাকী। আমি ঝুলি না, ঝোলাই। এই সংলাপ প্রকাশ্যে আসতেই অভিযোগ ওঠে, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের দুই বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকীর নাম ব্যবহার করে তাঁদের অসম্মান করা হয়েছে।
এই অভিযোগের পাল্টা জবাবে রাজ চক্রবর্তী স্পষ্টভাবে দাবি করেন, পুরো বিতর্কই ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজানো। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, ছবির সংলাপকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ব্যাখ্যা করে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।
কিন্তু এই অবস্থানকে পুরোপুরি সমর্থন করলেন না অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, রাজের আরও সচেতন হওয়া উচিত ছিল। রচনার মতে, সামাজিক মাধ্যমের এই যুগে সামান্য ভুলও বড় আকারের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। আগে হয়তো এ ধরনের নাম ব্যবহার নিয়ে এত আলোচনা হতো না, কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে।
নিজের জীবনের একটি অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন রচনা। তিনি জানান, তাঁর বাবার নাম রবীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় হওয়ায় ছোটবেলায় অনেকেই তাঁকে সেই নাম ধরে ডাকতেন। তখন বিষয়টি নিয়ে তেমন কাটাছেঁড়া হয়নি। রচনার মতে, বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম ব্যবহার করা মানেই যে অসম্মান করা হচ্ছে, তা নয়। তবে সংবেদনশীল বিষয় ব্যবহারে সতর্ক থাকা জরুরি।
রচনা আরও বলেন, সমাজে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, যেগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। তাঁর মতে, রাজ চাইলে চরিত্রের জন্য অন্য নামও বেছে নিতে পারতেন। মানুষ মাত্রই ভুল করে, তাই এই বিতর্ককে বাড়িয়ে জল ঘোলা না করাই ভালো।
এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিলেন, তিনি এই বিতর্কে রাজ চক্রবর্তীর পাশে দাঁড়াচ্ছেন না। বরং শিল্পী হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতা, সংবেদনশীলতা ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরলেন। রাজের ছবিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক তাই এখন শুধু রাজনৈতিক অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছুঁয়ে ফেলেছে দায়িত্বশীল সৃজনশীলতার প্রশ্নকেও।
আরপি/এসএন