জুলাই বিপ্লবী ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী ‘ইনকিলাব মঞ্চ’র আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের মুুুখোমুখি করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, সরকার খুনিদের আটকের ব্যাপারে খুবই সিরিয়াস। দ্রুতই খুনি ও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে ওসমান হাদির শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার লঞ্চঘাটের নাম তার নামে রাখার অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
জন্মস্থানের মাটি ও মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এই লঞ্চঘাটের নামফলকে ‘শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি লঞ্চঘাট’ লেখা হয়েছে।
এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শহীদ ওসমান হাদির জন্মস্থান নলছিটি। তাঁর শৈশব, বেড়ে ওঠা ও জীবনসংগ্রামের সঙ্গে এই লঞ্চঘাট এলাকার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সে কারণে নলছিটি লঞ্চ টার্মিনালের নাম পরিবর্তন করে তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদি একজন বিপ্লবী- আর বিপ্লবীদের কখনো মৃত্যু হয় না। হাদি এখন শুধু বাংলাদেশের সন্তান নন, হাদির নাম দেশের বাইরে চলে গেছে। এ নাম যুগে যুগে অক্ষুণ্ন থাকবে। হাদি দেশে একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাজনীতি চেয়েছিলেন, সেজন্য তাকে জীবন দিতে হয়েছে। হাদিসহ জুলাই আন্দোলনের সব শহীদের হত্যার বিচার না হলে তাদের আত্মা আমাদের মাফ করবে না।
হাদির খুনিদের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওসমান হাদির হত্যাকারীরা দেশের বাইরে আছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে আন্তরিকভাবে কাজ করা হচ্ছে। সরকার খুনিদের আটকের ব্যাপারে খুবই সিরিয়াস, দ্রুতই খুনি ও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
নতুন নামফলক উদ্বোধনের সময় উপদেষ্টা ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদিসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক খোঁজখবর নেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রফিকুল করিম, জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ও ইউএনও মো. জোবায়ের হাবিব প্রমুখ।
স্থানীয়রা বলেন, তারা চাইছিলেন ওসমান হাদির স্মরণে এমন কিছু হোক, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম মনে রাখবে। তাঁর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত লঞ্চঘাটের নাম তাঁর নামে হওয়া নিঃসন্দেহে স্মরণীয় সিদ্ধান্ত। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।
এদিকে উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের কাছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বিত সংগঠন ভলান্টিয়ার্স অব নলছিটির পক্ষ থেকে হাদির খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানানো হয়।
ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী জুলাই বিপ্লবী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্যে গুলি করে দুই সন্ত্রাসী। গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে তার মরদেহ দেশে এনে লক্ষ লক্ষ জনতার উপস্থিতিতে জানাজা নামাজ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে ওসমান হাদিকে দাফন করা হয়।
গুলি করার পর শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ ভারতে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ফয়সাল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা। ওসমান হাদির রাজনৈতিক সতীর্থদের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডে পতিত শক্তি আওয়ামী লীগের হাত আছে।
কেএন/টিকে