জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য গঠনের সূত্র ধরে এনসিপির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা পদত্যাগ শুরু করেন। এ পর্যন্ত দলটি থেকে অন্তত ১০ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে সম্পৃক্ত যোদ্ধা, শহীদ পরিবার ও আহতদের অনেকেই বলছেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় যাওয়ার পর থেকেই একের পর এক কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরের শীর্ষ নেতারা পদত্যাগ করছেন। আবার দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই দলের এমন সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনি কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
জামায়াতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ঘোষণার আলোচনার মধ্যে প্রথমেই পদত্যাগ করেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব, আলোচিত চিকিৎসক ও সমাজকর্মী ডা. তাসনিম জারা।
এরপর ধারাবাহিকভাবে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ের মোট ১০ জন নেতা দল ছেড়েছেন।
দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পৃথক পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা। অনেকে ফেসবুকে ঘোষণা দেন এবং কেউ অনলাইনে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিটের কয়েকজন পদত্যাগ করার ঘটনা ঘটেছে। এর বাইরে অন্তত পাঁচ নেত্রী এ বিষয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন এনসিপির মনোনীত প্রার্থী হয়েও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
পদত্যাগকারী নেতারা হলেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, তাজনূভা জাবীন, যুগ্ম সদস্য সচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন, যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেল, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, আইসিটি সেলের প্রধান ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য আল আমিন আহমেদ টুটুল, কেন্দ্রীয় সংগঠক ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি আজাদ খান ভাসানী। এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর জোট আলোচনার শুরুতেই পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মনোনীত প্রার্থী মীর আরশাদুল হক।
কেন্দ্রীয় এক নেতা দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, পদত্যাগ করা বেশিরভাগ নেতাই বাম ঘরানার ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা কেউই জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতাকে মানতে পারেননি। তবে এনসিপি মূলত নির্বাচনী কৌশল হিসেবেই এ জোটে গিয়েছে। এখানে আদর্শগত কোনো বিষয় নেই।
এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এনসিপির সঙ্গে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। পরে আরেক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
দল সূত্রে জানা যায়, অন্তত ৩০টি আসনে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় গিয়েছে এনসিপি। এ সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় ৩০ নেতা ওইদিনই আপত্তি জানিয়ে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দেন।
অন্যদিকে, দলের বাকি নেতারা নাহিদ ইসলামের সিদ্ধান্তের পক্ষে থাকার ঘোষণা দেন। শেষ পর্যন্ত জোটের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় একের পর এক পদত্যাগের ঘটনা ঘটছে।
এমকে/টিএ