২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো কিছুটা সময় বাকি থাকলেও, মাঠের লড়াইকে আরও গতিশীল করতে ফিফা এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা ভাবছে। বিশেষ করে খেলার গতি নষ্ট করতে ফুটবলারদের ‘নকল চোট’ বা সময়ক্ষেপণের প্রবণতা বন্ধ করতে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি একটি নতুন নিয়ম কার্যকর করার প্রস্তাব দিয়েছে। নিয়মটি সফল হলে আগামী বিশ্বকাপে ফুটবল মাঠের চিরচেনা দৃশ্য অনেকটাই বদলে যাবে।
ফুটবলে প্রায়ই দেখা যায়, কোনো দল সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলে বা চাপে পড়লে অহেতুক চোটের নাটক সাজিয়ে সময় নষ্ট করে। এটি রুখতে ফিফার নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, যদি কোনো খেলোয়াড় মাঠে চিকিৎসার প্রয়োজন মনে করেন, তবে তাকে মাঠের বাইরে যাওয়ার পর পুনরায় ফিরে আসতে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তত দুই মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।
এই সময় পার হওয়ার আগে রেফারি তাকে মাঠে ফেরার অনুমতি দেবেন না। ফলে ওই নির্দিষ্ট সময়টুকু সংশ্লিষ্ট দলকে একজন খেলোয়াড় কম নিয়েই প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে হবে। ফিফার মূল লক্ষ্য হলো অপ্রয়োজনীয় বিরতি কমিয়ে প্রকৃত খেলার সময় বৃদ্ধি করা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সময় অপচয় রোধ করা।
তবে খেলোয়াড়দের প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কঠোর নিয়মের কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে। যদি কোনো ফাউলের কারণে খেলোয়াড় চোট পান এবং সেই অপরাধের জন্য রেফারি প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে হলুদ বা লাল কার্ড দেখান, তবে এই নিয়ম কার্যকর হবে না।
এছাড়া দলের গোলকিপার চোট পেলে নিরাপত্তার খাতিরে তাকে এই বাধ্যতামূলক দুই মিনিটের নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে। কিংবদন্তি রেফারি পিয়েরলুইজি কোলিনা’র তত্ত্বাবধানে কাতার আরব কাপে এই নিয়মটি ইতোপূর্বে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছে। সংগৃহীত উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খেলোয়াড়রা মাঠের বাইরে থাকতে বাধ্য হওয়ায় অহেতুক চোট দেখানোর প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
২০২৬ সালের শুরুতেই ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) বার্ষিক সভায় এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করা হবে। এরপরই সংস্থাটি চূড়ান্ত ঘোষণা দেবে যে, আসন্ন বিশ্বকাপে নিয়মটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে কি না।
ফুটবলকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করার এই প্রচেষ্টা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হলেও, এটি ছোট দলগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে কি না তা নিয়ে ফুটবল মহলে বিতর্ক চলছে। তবে ফিফার এই পদক্ষেপ সফল হলে ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের অন্যতম গতিময় ও স্বচ্ছ একটি টুর্নামেন্ট।
আরআই/টিএ