সমাজমাধ্যমে লাগাতার হেনস্থা ও কুরুচিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে অবশেষে প্রকাশ্যে সরব হলেন টলিপাড়ার প্রথম সারির শিল্পী ও প্রযোজকেরা।
দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন আক্রমণের শিকার হয়ে আসা অভিনেতা অভিনেত্রী ও নির্মাতাদের অভিযোগ এবার পৌঁছেছে পুলিশের দপ্তরেও।
লালবাজারের সাইবার অপরাধদমন শাখায় গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে অভিযোগ জানান স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত ও ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন শ্রীকান্ত মোহতা, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, আবীর চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, নিসপাল সিংহ রানে, নীলরতন দত্ত, রানা সরকারসহ টলিউডের একঝাঁক পরিচিত মুখ।
টলিপাড়ার শিল্পীদের কথায়, কাজের সূত্রে কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামান্য এদিক ওদিক হলেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়ে যায় লাগামছাড়া কটাক্ষ। অভিনেতা থেকে পরিচালক কেউই বাদ পড়ছেন না। সম্প্রতি এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন অভিনেতা বনি সেনগুপ্ত ও অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ। তাঁদের অভিজ্ঞতাই যেন এই পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
শ্রীময়ী চট্টরাজের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল। তাঁর কথায়, মানুষ এখন সমাজমাধ্যমে অনেক বেশি বেপরোয়া। শুধু তাঁকে নয়, তাঁর শিশুকেও কটাক্ষের বাইরে রাখা হয় না। শ্রীময়ীর দাবি, এই ধরনের মন্তব্যকারীদের বড় অংশই মানসিক ভাবে অসুস্থ। কঠোর পদক্ষেপ না নিলে তাঁদের হুঁশ ফেরানো কঠিন। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা না বাড়লে এই সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে না।
একই সুর শোনা গেছে পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায়ের গলাতেও। তাঁর মতে, প্রশাসন আগেও এই ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সমাজমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের দায়িত্ববোধ না বাড়লে পরিবর্তন সম্ভব নয়। আইন প্রয়োজন, তবে তার সঙ্গে সামাজিক মানসিকতার বদলও জরুরি।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বনি সেনগুপ্ত জানান, একদিন আচমকা ফোন করে এক যুবক তাঁকে গালিগালাজ শুরু করে। থানায় অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ ওই যুবককে ধরে আনলে সে নিজেকে বনি সেনগুপ্তর ভক্ত বলে দাবি করে। সেই ঘটনার পর বনি বুঝেছেন, বাস্তব আর সমাজমাধ্যমে মানুষের আচরণের মধ্যে কতটা ফারাক। তাঁর মতে, পুরুষদের পাশাপাশি নারী শিল্পীদের আরও বেশি কুৎসিত মন্তব্যের শিকার হতে হয়। তাই কড়া পদক্ষেপ নিলে অন্তত কিছুটা রাশ টানা সম্ভব।
এই পুরো বিষয়ে ইমপা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। টলিপাড়ার শিল্পীদের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজমাধ্যমে হেনস্থার বিরুদ্ধে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণে লাগাম টানা সম্ভব হবে।
আরপি/টিকে