আবারও আলোচনায় ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানির পরিবার। বিলাসবহুল লাইফস্টাইলের জন্য প্রায়ই আলোচনায় থাকেন আম্বানি পরিবারের সদস্যরা। আবারও শিরোনাম হলে নীতা আম্বানি। এবার কথা উঠেছে ভিনটেজ লুক নিয়ে।
সম্প্রতি ২০২৪ ও ২০২৫, টানা দুই বছরের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ‘ইউনাইটেড ইন ট্রায়াম্ফ’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন নীতা আম্বানি।
কিন্তু সেদিন নজর কাড়ে তার সাজও। খুব ঝলমলে কিছু নয়, আবার চোখ এড়িয়ে যাওয়ার মতোও নয়। পোশাক ও পরিমিত সাজেই যেন ফুটে উঠেছে নীতা আম্বানির ভিনটেজ লুক।
এই বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য নীতা আম্বানি বেছে নিয়েছিলেন হালকা গোলাপি রঙের জর্জেট শাড়ি। ডিজাইনার আবু জানি সন্দীপ খোসলার ‘বুরানো’ কালেকশনের এই শাড়িটি প্রথম দেখাতেই আলাদা করে বোঝা যায়। শাড়ির জমিনে সিল্ক সুতোয় সূক্ষ্ম হাতে করা কাজ, তার ফাঁকে ফাঁকে সিকুইন আর ছোট মুক্তার ছোঁয়া। আলো পড়লে শাড়িটা ঝলমল করে ওঠে, আবার আলো সরে গেলে হয়ে যায় শান্ত, মার্জিত।
শাড়িটির সঙ্গে ছিল টিউলের ব্লাউজ। ভারী নয়, কিন্তু পুরো লুকটাকে ভারসাম্য এনে দিয়েছে। ডিজাইনারদের ভাষায়, এই শাড়ি সময়ের সঙ্গে বদলায় না, চিরকালীন সৌন্দর্যই এর মূল শক্তি।
এই শাড়ির নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তার গল্প। বুরানো, ইতালির ভেনিসের কাছে ছোট্ট একটি দ্বীপ। শত শত বছর ধরে এই দ্বীপ পরিচিত সূক্ষ্ম লেস তৈরির জন্য। ষোড়শ শতক থেকেই বুরানোর নিডল লেস ছিল ইউরোপীয় অভিজাতদের পছন্দ। সেই লেসের জটিল নকশা আর ধৈর্যের কাজই নতুনভাবে ফিরে এসেছে এই শাড়িতে।
ইতালির সেই লেসের ঐতিহ্য আর ভারতীয় শাড়ির মেলবন্ধনেই তৈরি হয়েছে এই পোশাক। যেখানে সংস্কৃতি মিলেছে কারিগরির হাত ধরে।
নীতা আম্বানির সাজ মানেই গয়নার কথা আলাদা করে বলতে হয়। এই দিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তিনি পরেছিলেন নিজের সংগ্রহ থেকে বাছাই করা গয়না। গলায় ছিল পদ্মফুলের নকশার একটি ডায়মন্ড চোকার। তার চারপাশে বসানো ছিল বিরল বাসরা মুক্তা। সঙ্গে বাসরা মুক্তা আর হীরার ব্রেসলেট। আঙুলে একটি বড় ডায়মন্ড আংটি পুরো সাজে শেষ ছোঁয়া দিয়েছে।
বাসরা মুক্তা শুধু গয়না নয়, ইতিহাসও বটে। পারস্য উপসাগরের জল থেকে পাওয়া এই মুক্তা একসময় ভারতেও রাজকীয় পরিচয়ের অংশ ছিল। হায়দরাবাদের নিজামদের হাত ধরে এই মুক্তা বিশেষ কদর পায়। আজ সামুদ্রিক পরিবেশ ধ্বংসের কারণে প্রাকৃতিক বাসরা মুক্তা প্রায় বিলুপ্ত।
এই মুক্তার রং হালকা ক্রিমি, আকার সাধারণত গোল। কিন্তু সবচেয়ে আলাদা করে চেনা যায় এর গভীর, আয়নার মতো উজ্জ্বলতায়। বড় আকারের বাসরা মুক্তা তাই খুবই বিরল, আর তার মূল্যও তেমনই।
এই শাড়ি আর গয়নার সাজে কোথাও বাড়াবাড়ি নেই। নেই অতিরিক্ত প্রদর্শন। সবকিছু মিলেছে মেপে, বুঝে। ভিনটেজ গ্ল্যামার মানে সব সময় ঝলমল নয়। কখনো কখনো তা লুকিয়ে থাকে লেসের ভাঁজে, মুক্তার আলোয় আর একজন নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে। নীতা আম্বানির এই সাজ সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।
এসকে/টিএ