ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জনপ্রিয়তা পাওয়া কন্টেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে জুয়েল রানা ইতিমধ্যেই পরিচিত এক নাম। ‘চিত্ত মিডিয়া’-র নিয়মিত মুখ হিসেবে সমাজ, সম্পর্ক আর মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে তাঁর বক্তব্য বারবার আলোচনার জন্ম দেয়। এবারও তেমনই এক বাস্তব ও তিক্ত সত্য সামনে আনলেন তিনি, যা অনেক আবেগী মানুষের না বলা কষ্টের কথাই যেন প্রকাশ করে দিল।
সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জুয়েল রানা বলেন, আমরা অনেক সময় সবাইকে আপন ভাবতে গিয়ে নিজের আবেগ নিঃশেষ করে ফেলি। অন্যকে খুশি রাখতে, সবার পাশে থাকতে গিয়ে ভুলে যাই নিজের সীমার কথা। অথচ দিনের শেষে দেখা যায়, সেই মানুষগুলোর কেউই আঘাত দিতে এক মুহূর্ত ভাবেনি। যত ভালো কাজই করা হোক না কেন, মানুষের স্মৃতিতে থেকে যায় না তা।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, চাইলেই কি সবার মনের মতো হওয়া সম্ভব। সবাইকে আপন ভাবা, সবার জন্য সবকিছু করা কি আদৌ বুদ্ধিমানের কাজ। বাস্তবতা হলো, মানুষ প্রয়োজন ফুরোলে দূরে সরে যেতে সময় নেয় না। হাজার ভালো কাজের পরেও আঘাত করতে তারা কার্পণ্য করে না।
জুয়েল রানার বক্তব্যে স্পষ্ট, অন্ধ বিশ্বাস আর নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের মূল্য সবসময় পাওয়া যায় না। বরং এতে নিজের মানসিক শান্তি নষ্ট হয়। তাই তিনি মনে করিয়ে দেন, সবার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার আগে নিজের ভালো থাকার কথা ভাবা জরুরি। নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব না দিলে অন্য কেউ তা দেবে না।
এই বক্তব্য আবেগপ্রবণ মানুষদের জন্য যেন এক বাস্তবসম্মত সতর্কবার্তা। সম্পর্ক মানেই নিঃশেষ হয়ে যাওয়া নয়, বরং যেখানে সম্মান নেই, সেখানে নিজেকে সরিয়ে নেওয়াই আত্মসম্মান। জুয়েল রানার এই কথাগুলো তাই অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি।
আরপি/টিকে