শীত নামলেই ঘুমের প্রস্তুতিতে অনেকের অভ্যাস বদলে যায়। কম্বলের সঙ্গে যুক্ত হয় পায়ের মোজা। ছোটবেলা থেকে শোনা সেই পরিচিত উপদেশ মোজা পরে ঘুমাও, ঠান্ডা লাগবে না আজও বহু মানুষের রাতের সঙ্গী। কারও কাছে এটি নিছক আরাম, আবার কারও কাছে প্রয়োজন। কিন্তু শীতের রাতে এই অভ্যাস কি সত্যিই শরীরের জন্য উপকারী, নাকি আরামের আড়ালে লুকিয়ে আছে কিছু অস্বস্তিকর ঝুঁকি এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন বাড়ছে কৌতূহল।
চিকিৎসকদের মতে, মোজা পরে ঘুমানো সব সময় ক্ষতিকর নয়। তবে এটি নির্ভর করে মোজার ধরন, পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর। শীতের রাতে পা ঠান্ডা হয়ে গেলে ঘুমে বিঘ্ন ঘটতে পারে, তখন ঢিলেঢালা ও নরম মোজা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু এই অভ্যাস নিয়মিত ও অসতর্কভাবে চালু থাকলে সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
অনেকে ধারণা করেন, মোজা পরলে রক্ত চলাচল বাড়ে। বাস্তবে চিত্রটি সব সময় এমন নয়। আঁটসাঁট মোজা দীর্ঘ সময় পায়ে থাকলে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। পায়ের শিরা ও স্নায়ুর ওপর চাপ পড়লে ঝিনঝিনে ভাব, অস্বস্তি কিংবা ব্যথাও অনুভূত হতে পারে। তাই ঠান্ডা এড়াতে মোজা পরলেও তা যেন পায়ে চাপ সৃষ্টি না করে, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মোজার উপাদান। সিনথেটিক বা নাইলনের মোজা বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত করে। ফলে পায়ে ঘাম জমে জীবাণুর বংশবিস্তার ঘটে। এর ফল হিসেবে চুলকানি, ছত্রাক সংক্রমণ কিংবা দুর্গন্ধের মতো বিব্রতকর সমস্যা দেখা দিতে পারে। দিনের বেলা ব্যবহৃত মোজা রাতের ঘুমে ব্যবহার করাও স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ এতে জমে থাকা জীবাণু বিছানায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ঘুমের সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই নিজের তাপমাত্রা সামঞ্জস্য করে নেয়। পা অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে সেই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। মোজা পরে ঘুমালে অনেক সময় শরীর প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গরম হয়ে ওঠে, যার ফলে গভীর ঘুম ব্যাহত হয়। আবার অস্বস্তিকর মোজা পায়ে থাকলে ঘুমের মধ্যে পা নাড়াচাড়া বাড়ে, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
তবে সব ক্ষেত্রেই যে মোজা পরে ঘুমানো এড়িয়ে চলতে হবে, তা নয়। যাদের পা অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে যায় বা যাদের রক্ত সঞ্চালনজনিত সমস্যা রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মোজা ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে মোজাটি হতে হবে ঢিলেঢালা, তুলার তৈরি ও অবশ্যই পরিষ্কার।
শীতের রাতে আরামের খোঁজে গড়ে ওঠা অভ্যাস দোষের নয়। তবে আরাম যেন অজান্তেই স্বাস্থ্যের জন্য অস্বস্তির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে সতর্ক থাকা জরুরি। মোজা পরে ঘুমানোর আগে তাই নিজের শরীরের সংকেতগুলো বুঝে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
এমকে/এসএন