বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টির স্বামী ও ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রার আইনি জট যেন কাটছেই না। ৬০ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সামনে এল প্রায় ১৫০ কোটি টাকার বিটকয়েন কেলেঙ্কারি। এই মামলাতেই রাজ কুন্দ্রাকে তলব করেছে তদন্তকারী সংস্থা। আগামী ১৯ জানুয়ারি আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে অজয় ভরদ্বাজ, মহেন্দর ভরদ্বাজ ও অমিত ভরদ্বাজ মিলে একটি সংস্থার মাধ্যমে গেইন বিটকয়েন নামের পঞ্জি স্কিম চালু করেন। বিনিয়োগকারীদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, বিটকয়েনে টাকা ঢাললেই প্রতি মাসে বিপুল মুনাফা মিলবে। সেই প্রলোভনে পড়ে হাজার হাজার মানুষ বিনিয়োগ করেন। কিন্তু বাস্তবে লাভের বদলে উধাও হয়ে যায় বিপুল অঙ্কের অর্থ। অভিযোগ অনুযায়ী, এই স্কিমের মাধ্যমে প্রায় ছয় হাজার ছয়শো কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
এই কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে জানা যায়, রাজ কুন্দ্রা এই গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। ইডির দাবি, ইউক্রেনে বিটকয়েন মাইনিং প্রকল্প তৈরির জন্য রাজ কুন্দ্রা ভরদ্বাজ গোষ্ঠীর কাছ থেকে ২৮৫টি বিটকয়েন নিয়েছিলেন। বর্তমানে এই বিটকয়েনগুলোর বাজারমূল্য ১৫০ কোটিরও বেশি। যদিও সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি, তবু বিটকয়েনগুলো রাজ কুন্দ্রার দখলেই থেকে যায় বলে অভিযোগ।
তদন্ত চলাকালীন রাজ কুন্দ্রা নিজেকে একজন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করলেও সংস্থার বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন ছবি। অভিযোগ রয়েছে, একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি ডিজিটাল ওয়ালেটের ঠিকানা কিংবা বিটকয়েন সংক্রান্ত পূর্ণ হিসাব আদালতের কাছে জমা দেননি। এমনকি তদন্ত চলাকালীনও অর্থের উৎস আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি ইডির।
রাজ কুন্দ্রার জীবনে আইনি বিতর্ক নতুন নয়। এর আগে আইপিএল বাজি কেলেঙ্কারি, পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট সংক্রান্ত মামলা এবং বড় অঙ্কের আর্থিক তছরূপের অভিযোগে একাধিকবার শিরোনামে এসেছেন তিনি। নতুন করে বিটকয়েন কেলেঙ্কারির অভিযোগে তাঁর আইনি জটিলতা আরও গভীর হলো বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এমকে/এসএন