নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি কুইন্সের একটি সিনাগগের সামনে বিক্ষোভে হামাসের সমর্থনে দেওয়া স্লোগানের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনপন্থী ও ইসরায়েলপন্থী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে আখ্যা দেন মামদানি।
প্যালেস্টাইন অ্যাসেম্বলি ফর লিবারেশন' নামক সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত সেই বিক্ষোভে কিছু বিক্ষোভকারীকে হামাসের সমর্থনে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ নিয়ে পরবর্তীতে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থীরা হামাসকে সমর্থন করে স্লোগান দিচ্ছিল, অন্যদিকে ইসরায়েলপন্থী বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকেও জাতিগত ও বৈষম্যমূলক মন্তব্য করতে শোনা যায়।
প্রাথমিক বিবৃতিতে মেয়র মামদানি এই ধরণের কর্মকাণ্ডকে নিউইয়র্কের সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে অভিহিত করেন। তবে হামাসের নাম সরাসরি উল্লেখ না করায় বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচিত হওয়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একটি বার্তা প্রদান দেন। সেখানে তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন, হামাসের মতো একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের সমর্থনে দেওয়া স্লোগান নিউইয়র্ক সিটিতে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও নিশ্চিত করেন, যেকোনো উপাসনালয়ে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সাথে সাংবিধানিক প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা করতে তার প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
মেয়র মামদানির পাশাপাশি নিউ ইয়র্কের অন্যান্য প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই ধরণের বক্তব্যকে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও জঘন্য বলে আখ্যায়িত করে বলেন, হামাস একটি সন্ত্রাসী সংগঠন যারা ইহুদি নিধনের ডাক দেয়। অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজও এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন।