আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি স্বীকার করেছেন যে, সম্প্রতি তিনি লিওনেল মেসির সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত বৈঠক করেছেন। সেই আলোচনায় কী কী বিষয় উঠে এসেছে, সেটিও প্রকাশ করেছেন তিনি। কাতার বিশ্বকাপে ৩৬ বছর পর পুনরুদ্ধার করা শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আলবিসেলেস্তেদের নামতে আর বাকি মাত্র ৫ মাস। কোচ স্ক্যালোনি তাই ব্যস্ত শিরোপা রক্ষার পরিকল্পনায়। সেই পরিকল্পনায় সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসি থাকবেন বলেই সমর্থকদের প্রত্যাশা।
আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসি যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। যসিও যুক্তরাষ্ট্রে এমএলএস কাপজয়ী ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তিনি নতুন চুক্তি করেছেন এবং অনেকেই মনে করছেন, উত্তর আমেরিকার মাটিতে আরেকটি বড় টুর্নামেন্টে তাকে দেখা যাবে।
বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের ভাবনা সম্পর্কে মেসি বলেন, ‘আমি আশা করি আমি সেখানে থাকতে পারব। আগেও বলেছি, আমি থাকতে চাই। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতেও আমি গ্যালারিতে বসে সরাসরি খেলা দেখব- তবুও সেটা বিশেষ হবে। বিশ্বকাপ সবার জন্যই বিশেষ, যেকোনো দেশের জন্য- বিশেষ করে আমাদের জন্য, কারণ আমরা এটা একেবারে ভিন্নভাবে অনুভব করি।’
স্কালোনির সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি ইএসপিএনকে আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে আমরা এ নিয়ে কথা বলেছি। সে আমাকে বোঝে, আর আমরা বিষয়টা অনেকবার আলোচনা করেছি। সে সবসময় বলে- যেকোনো ভূমিকায় হলেও সে চায় আমি যেন দলে থাকি। আমাদের মধ্যে গভীর বিশ্বাসের সম্পর্ক আছে, আমরা সবকিছু নিয়ে কথা বলতে পারি।’
এরপর স্কালোনি মেসির সঙ্গে আরেক দফা আলোচনা করেন। এমএলএসের অফ-সিজনে মেসি আর্জেন্টিনায় ফিরে পরিবার নিয়ে সময় কাটাচ্ছিলেন। ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও তাদের তিন ছেলের সঙ্গে বিশ্রাম ও অবসর উপভোগ করছিলেন।
এএফএ এস্তুদিওকে স্ক্যালনি বলেন, ‘আমি লিওর সঙ্গে দেখা করেছি, কারণ আমরা কাছাকাছিই ছিলাম। কফি খেয়েছি। যারা তাকে চেনে, তারা জানে- সে কখনোই পুরোপুরি বিশ্রাম নেয় না। সে জন্মগত প্রতিযোগী। সে সবসময় খেলতে চায়। এটা সতীর্থদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ- একজন অধিনায়ক যদি এমন মানসিকতা দেখায়। সে সবসময় খেলতে আসে। এটাই তার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার। যারা তার পরে আসবে, তাদের এটা ধরে রাখতে হবে।’
বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না- এই প্রশ্নে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলিনি। দেখা যাক। ও যেমন বলে, এখনও সময় আছে। আমাদের তাকে চাপ দেওয়া উচিত নয়, তাকে শান্তিতে থাকতে দিতে হবে।’
স্কালোনি আরও জানান, বর্তমানে তার কাছে প্রায় ৫০ জন খেলোয়াড়ের একটি প্রাথমিক তালিকা রয়েছে, যেটা ধীরে ধীরে ছোট করা হবে। তিনি বলেন, ‘গত বিশ্বকাপে আমরা দেখেছি- খুব কাছাকাছি সময়ে গিয়েও খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়েছে। কাউকেই এখনই বাদ দেওয়া যায় না। তাই তালিকাটা বড় রেখেছি।’
এই তালিকায় রয়েছেন থিয়াগো আলমাদাও। ২৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারকে একসময় ‘নম্বর টেন’ ভূমিকায় মেসির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হতো। তবে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে স্পেনের অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর সময়টা তার জন্য কঠিন গেছে।
আলমাদা নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা কখনোই হস্তক্ষেপ করি না। সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আমরা শুধু তার ফুটবল পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করব এবং দেখব- সে আমাদের প্রত্যাশিত মানে খেলছে কি না।’
‘থিয়াগোর ক্ষেত্রেও একই কথা। তার সঙ্গে কী হবে আমি জানি না, কিন্তু সে যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, আমরা সেটার মূল্যায়ন করব। এটা বলাই বাহুল্য- সে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। শেষ পর্যন্ত পারফরম্যান্সই সব ঠিক করবে, লিগ বা ক্লাব নয়,’- তিনি যোগ করেন।
স্কালোনির ধারণা, ২০২৬ সালের স্কোয়াড অনেকটাই কাতার ২০২২- এর বিশ্বজয়ী দলের মতোই হবে। ৪৭ বছর বয়সী এই কোচ স্বীকার করেছেন- পরিবর্তনের জন্য তিনি এখনো ‘যথেষ্ট কারণ' দেখছেন না এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা আবার সুযোগ পাওয়ার অধিকার ‘অর্জন করেছে’।
তিনি বলেন, ‘ম্যাচ যত কাছে আসবে, তাদের ততই সেরা ফর্মে থাকতে হবে। এখনই সব চূড়ান্ত করা অর্থহীন- তা বলছি না, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হবে মার্চের পর থেকে। শীর্ষ ফর্মে পৌঁছাতে তাদের একটু ভাগ্যও দরকার।’
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা পড়েছে গ্রুপ জে'তে। তাদের শিরোপা রক্ষার অভিযান শুরু করবে হবে ২৬ জুন, কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর তারা মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের।
এমআই/টিএ