স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হওয়া বরিশাল বিএনপির দুই নেতাকে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে বহিষ্কারের প্রায় আড়াই বছর পর তাদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হোন তারা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের এক চিঠিতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে সিটি নির্বাচনের সময় বহিষ্কার ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলো।
নতুন করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া দু’জন হলেন— বরিশাল মহানগর বিএনপির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য সচিব জিয়াউল হক মাসুম ও বরিশাল জেলা তাঁতীদলের সাবেক সভাপতি কাজী মো. সাহিন। তাদের মধ্যে মাসুম মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদের অনুসারী। তিনি সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি বরিশালে বিএনপির অফিস পোড়ানোসহ গণ-অভ্যুত্থানে হামলার একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামিও ছিলেন মাসুম। ওই মামলায় কারাভোগও করেছেন তিনি। বর্তমানে জামিনে আছেন। তাকে পুনরায় দলে নেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেন ওই ২ জনসহ বিএনপির ১৯ নেতা। এ কারণে ‘বেইমান এবং ‘মীর জাফর’ আখ্যা দিয়ে একই বছরের ৪ জুন ১৯ নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে বিএনপি।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সেই বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা খুন-গুমের শিকার পরিবারসহ গণতন্ত্রকামী জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। গণতন্ত্র উদ্ধারের ইতিহাসে তাদের নাম ‘বেইমান, বিশ্বাসঘাতক ও মীর জাফর’ হিসেবে উচ্চারিত হবে।
এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতোপূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কার্যকলাপের জন্য দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১০ জানুয়ারি তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি কামরুল আহসান রুপন, মো. ফিরোজ আহমেদ, মো. ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার, সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক, হুমায়ুন কবির, সৈয়দ হুমায়ুন কবির লিংকু, মহিলা দল নেত্রী জাহানারা বেগম ও সেলিনা বেগম, রাশিদা পারভীন, জেসমিন সামাদ শিল্পী, যুবদলের সিদ্দিকুর রহমান ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জাবের আব্দুল্লাহ সাদী এবং তার আগে গত ৭ জানুয়ারি মহানগর বিএনপির সাবেক তিন যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ্ আমিনুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান টিপু ও হারুন অর রশিদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
ইউটি/টিএ