বাবা মোহাম্মদ নবী পাশেই বসে ছিলেন। হাসান ইসাখিলকে প্রশ্ন করা হলো, বাবা কি খুব কড়া? দ্রুত এলো উত্তর, ‘না, না। আমরা একদম স্বাভাবিক বাবা-ছেলের মতো। আমরা আসলে বন্ধুর মতো।’ পাশে বসা নবী মুচকি হেসে যোগ করলেন, ‘আমি শুধু ট্রেনিংয়ের সময় কড়া। কোনো অজুহাত চলে না।’
বাবা ছেলের এই কথায় সংবাদ সম্মেলন কক্ষে হাসির রোল পড়ে যায়। বিপিএলে অনেক গল্প তৈরি হয়, কিন্তু এমন গল্প আগে কখনও দেখা যায়নি। ১৯ বছর বয়সী ইসাখিলকে নোয়াখালী এক্সপ্রেস যখন দলে নিলো, তখন দলে একটা আশার সুবাতাস বইতে থাকল। রাত গড়াতে এই ব্যাটারের ৬০ বলে ৮২ রানের সুবাদে জয়ও পেল দল। বাবার সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৫৩ রানের জুটি গড়ে জানিয়ে দিলেন, তাদের মধ্যে মাঠের সম্পর্কও দারুণ। ৭ চার ও ৫ ছয়ের ইনিংসে স্ট্রাইক রেট ছিল ১৫৩.৩৩।
নবী মাঠে থাকাকালে পুরো সময় ইসাখিলকে গাইড করছিলেন- বোলার কী করতে পারেন, বল কি ফাস্ট হবে নাকি স্লোয়ার। নবীর এই পরামর্শ কাজে লাগিয়ে ছেলে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। তাছাড়া প্রস্তুতিও যে তিনি ভালোভাবে নিয়ে এসেছেন, তা স্পষ্ট। নোয়াখালী ইসাখিলের ব্যাটে চড়ে টুর্নামেন্টের নিজেদের সর্বোচ্চ ১৮৪ রান সংগ্রহ করে এবং ৪১ রানে জয় পায়।
৪১ বছর বয়সী নবী বলেন, ‘ছেলের সঙ্গে খেলার জন্য আমি অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। আমি ওকে একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলেছি। অভিষেকে খুব ভালো পারফরম্যান্স করেছে সে। অভিষেকের আগে গতকাল আমি ওকে ৯০ মিনিট সময় দিয়েছি বোলারদের ধরন বোঝাতে। এমনকি সাইড-আর্ম স্টিক দিয়ে ওকে বেশ কঠিন প্র্যাকটিস করিয়েছি। যেকোনো তরুণের জন্য অভিষেকের চাপ সামলানো কঠিন, কিন্তু ও সেটা খুব ভালোভাবে পেরেছে।’
সেঞ্চুরি মিস করা নিয়ে ইসাখিলের কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, ‘আমি তখন ছক্কা মারার চেষ্টা করছিলাম যাতে দলের স্কোর বড় হয়। সেঞ্চুরি করতে না পেরে আমি হতাশ নই। আমার কোনো আক্ষেপ নেই এনিয়ে।’ নিজের ব্যাটিং স্টাইল নিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকে বলে আমি বাবাকে নকল করি, কিন্তু আসলে আমি স্বভাবগতভাবে এমন খেলি। আমাদের স্বপ্ন হলো আমি যেন জাতীয় দলে খেলতে পারি, তাই ঘরোয়া ক্রিকেটে মন দিচ্ছি।’ নবীও জানিয়ে দিলেন তার ছেলে তাকে নকল করেন না, ‘এটা ওর নিজস্ব স্টাইল। ও জন্মগতভাবেই এমন।’
আরআই/টিকে