আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিসিবিকে যে অভ্যন্তরীণ বার্তা পাঠানো হয়েছে, তা নিয়ে নানা গুঞ্জন কার্যত ভিত্তিহীন। আইসিসি সূত্র জানিয়েছে, “ভারতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আইসিসি থেকে বিসিবিকে একটি অভ্যন্তরীণ বার্তা পাঠানো হয়েছে। তবে যা সম্প্রতি আসিফ নজরুল বলেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের করা সাম্প্রতিক এক দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সংস্থাটি উপদেষ্টার এই বক্তব্যকে 'সম্পূর্ণ অসত্য' বলে অভিহিত করেছে।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এই টুর্নামেন্টের জন্য ভারত সফরে অনীহা প্রকাশ করেছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।
বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন বিসিসিআই 'অস্পষ্ট' কিছু পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছিল।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দাবি করেন, আইসিসি বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করেছে।
আসিফ নজরুল বলেন, 'আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের চিঠিতে ভারতে আসন্ন বিশ্বকাপে তিনটি কারণে বাংলাদেশের নিরাপত্তাশঙ্কা বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে। এই কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো-বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত করা।'
ক্রীড়া উপদেষ্টা সংবাদ সম্মেলনে আরও জানিয়েছেন, চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, মোস্তাফিজুর রহমান দলে থাকলে তা সামগ্রিকভাবে দলের নিরাপত্তাঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে।
ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, 'চিঠিতে বলা হয়েছে, তিনটি জিনিস হলে বাংলাদেশ টিমের নিরাপত্তা আশঙ্কা বাড়বে। প্রথমত, বাংলাদেশ দলে যদি মোস্তাফিজুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সমর্থকরা যদি জাতীয় জার্সি পরে ঘোরাফেরা করেন। আর তৃতীয়ত, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তত দলের নিরাপত্তাঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।'
তবে আইসিসি বিসিবির সাথে যোগাযোগের কথা স্বীকার করলেও আসিফ নজরুলের এই দাবিগুলো কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইসিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, 'ভারতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আইসিসি থেকে বিসিবিকে একটি অভ্যন্তরীণ বার্তা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আসিফ নজরুল যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আইসিসির কোনো বার্তাতেই মুস্তাফিজের দলে থাকা বিষয়টি যে সমস্যা হতে পারে, তা উল্লেখ করা হয়নি। এটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন... আনুষ্ঠানিক বার্তায় এমন কোনো পরামর্শ দেওয়া হয়নি।'
উল্লেখ্য, মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় এই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বাংলাদেশের প্রথম তিনটি গ্রুপ ম্যাচ কলকাতায় এবং শেষ ম্যাচটি মুম্বাইতে হওয়ার কথা রয়েছে।
এসএস/টিএ