ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্র আপিলেও বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে ইসির আপিল শুনানির ষষ্ঠ দিনে তার প্রার্থিতা বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
ইসি সূত্র জানায়, দলীয় মনোনয়নপত্রে থাকা স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের মিল না থাকায় আপিলেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি মুজিবুল হক চুন্নু। ফলে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে তার নির্বাচন করার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।
এদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ৩৮১ থেকে ৪৩০ ক্রমিকের মোট ৫০টি আপিলের শুনানি শেষে ইসি এ সিদ্ধান্ত দেয়। শুনানি শেষে জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নুর প্রার্থিতা বাতিলের ঘোষণা আসে।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই চলাকালে ঋণখেলাপি হওয়া, দলীয় চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর না থাকাসহ একাধিক ত্রুটির কারণে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।
প্রসঙ্গত, অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দুই দফা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনীত ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার সাঁটালেও মনোনয়নপত্র ক্রয়, দাখিল ও যাচাই-বাছাইয়ের সময় সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর থেকে মুজিবুল হক চুন্নু তার নিজ বাড়ি কিংবা নির্বাচনী এলাকা করিমগঞ্জ-তাড়াইল উপজেলায় একবারও আসেননি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময় করিমগঞ্জে তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের উদ্যোগে ঝাড়ু মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়।
পিআর/টিএ