বাবা-মেয়ের সম্পর্ক মানে এক অদৃশ্য শক্তির বন্ধন। বাবা ছাড়া সন্তানের জীবন যেন শূন্য মরুভূমির মতো। সাধারণ মানুষ হোক বা জনপ্রিয় তারকা-অভিভাবকহীন জীবনের যন্ত্রণার গভীরতা শুধু তারা বোঝেন, যারা মা-বাবাকে হারিয়েছেন। সেই তালিকায় ছয় বছর আগে নাম লিখিয়েছিলেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। ২০১৯ সালে চিরতরে না ফেরার দেশে চলে যান তাঁর বাবা সন্তু মুখোপাধ্যায়।
বাবা চলে গেলেও প্রতিটি মুহূর্তে তাঁকে মনে রেখেই বাঁচেন স্বস্তিকা। কখনও বাবার শেখানো আদর্শে, কখনও স্মৃতির অলিগলিতে ভ্রমণ করতে করতে। তাই বাবার জন্মবার্ষিকীতে এবারও আবেগে ভাসলেন অভিনেত্রী। বাবা সন্তুর উদ্দেশে লিখলেন খোলা চিঠি।
পিরামিডের সামনে বাবার সঙ্গে তোলা একটি ছবি শেয়ার করে স্বস্তিকা লেখেন, “ছয় বছর হয়ে গেল, সামনে থেকে আর বলা হয় না হ্যাপি বার্থডে বাবা। এখন তো তোমার হাতে-পায়ে কোনও বেড়ি নেই। ডানা মেলে উড়ে বেড়ানোর সময় তোমার। টিকিট, ভিসা, সুটকেস ছাড়াই গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে ঘুরে বেড়াতে পারো।”
তিনি আরও লেখেন, “তোমার প্রিয় দেশের প্রিয় ছবিটা ঠিক খুঁজে পেয়েছি। তুমি বলেছিলে, মরার আগে মিশরটা যেন দেখতে পারি। স্কুলের বইয়ে ছোটবেলায় কতবার দেখেছি পিরামিড, সাহারা মরুভূমি, নীল নদ, মমি। গোটা সভ্যতা মৃত্যু আর মৃত্যুর পরের জীবনকে ঘিরে কী আশ্চর্য সব স্থাপত্য রেখে গেছে। আমরা যাব তো-রে এই প্রশ্নটা এখনও কানে বাজে।”
স্মৃতি রোমন্থন করে স্বস্তিকা লেখেন, “যাক বাবা, তোমার স্বপ্নের দেশ তুমি দু’চোখ ভরে দেখে এসেছ। যা বাকি রয়ে গেল, সেগুলো নিজে নিজে ঘুরে নিও। আবার কোনও একদিন নিশ্চয়ই দেখা হবে আমাদের। তখন যে দেশগুলো দেখা বাকি থাকবে, সেগুলো দুজনে মিলে দেখে নেব কেমন?”
শেষে বাবাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, “তুমি আমার জীবনের আলো হয়ে আছো। এমনটাই থেকো।”
প্রসঙ্গত, কাজের দিক থেকে এই মুহূর্তে স্বস্তিকা অত্যন্ত ব্যস্ত। সামনে রয়েছে নতুন ওয়েব সিরিজ ও সিনেমা। তবু বাবার জন্মদিন তাঁর কাছে আজও বিশেষ আবেগের।
পিআর/এসএন