দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার অবসান করে অবশেষে বলিউডে ফিরলেন ইমরান খান। ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কাট্টি বাট্টি’ সিনেমার পর অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়া এই অভিনেতা এবার ‘হ্যাপি প্যাটেল: খতরনাক জাসুস’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন করলেন। যদিও ক্যামিও চরিত্রে ছিলেন, তবুও ইমরানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা গেছে।
কিন্তু অভিনেতার হিন্দি সিনেমায় ফেরার সময়েও বারবার সেই পুরোনো প্রশ্নই ঘুরেফিরে আসছে, কেনো বলিউড ছেড়েছিলেন ইমরান খান? কারণ এ অভিনেতা যখন বলিউড থেকে সরে গিয়েছিলেন, তখন তার ক্যারিয়ার যথেষ্ট স্থিতিশীলই ছিল।
অতীতে ফিল্ম কম্প্যানিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান জানান, ইন্ডাস্ট্রিতে অর্থকেন্দ্রিক মানসিকতা ও পরিবেশ তাকে ধীরে ধীরে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। তার ভাষায়, অভিনেতাদের সাফল্য তখন সৃজনশীলতার চেয়ে পারিশ্রমিক, বক্স অফিস আয়, ব্র্যান্ড ভ্যালু ও জনসমাগমের মাধ্যমেই মাপা হচ্ছিল। শুরুতে এসব বিষয় তাকে প্রভাবিত না করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনিও সংখ্যার হিসাবেই সিনেমার স্ক্রিপ্ট ও চরিত্রের মূল্যায়ন করতে শুরু করেন- যা তাকে নিজের কাজের প্রতি সন্দিহান করে তোলে।
ইমরান আরও বলেন, তিনি বুঝতে পারেন যে আবেগ ও সৃজনশীল সন্তুষ্টির জায়গা থেকে তিনি সরে যাচ্ছেন। ‘কাট্টি বাট্টি’র বাণিজ্যিক ব্যর্থতাও তার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল, তবে সেটি কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে তৈরি হওয়া এক উপলব্ধির ফলেই তিনি অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ান। শেষ পর্যন্ত তার মনে হয়েছিল, অভিনয়ের সুযোগের পেছনে দৌড়ানোর আগ্রহ আর আগের মতো নেই।
এছাড়াও অর্থ যে কখনোই তার প্রধান চালিকা শক্তি ছিল না, সেটিও খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছেন ইমরান। সামদিশের আনফিল্টার্ড অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি তীব্র বেতন বৈষম্যের মুখোমুখি হন।একই সাক্ষাৎকারে ইমরান জানিয়েছিলেন যে, তার ক্যারিয়ারে এক সিনেমায় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ছিল ১২ কোটি টাকা।
তবে সবকিছু পেছনে ফেলে এবার নতুন অধ্যায় শুরু করলেন ইমরান। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এই অভিনেতার নতুন সিনেমা ‘হ্যাপি প্যাটেল: খতরনাক জাসুস’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে।
ছবিটির পরিচালক বীর দাস। নির্মাতা এতে অভিনয়ও করেছেন। আরও অভিনয় করেছেন মিথিলা পালকার ও শারিব হাশমি। আর বিশেষ ক্যামিও চরিত্রে আছেন আমির খান।
এমআই/এসএন