সাদা বলের ক্রিকেটে এখন ভারতের নিয়মিত মুখ হর্শিত রানা। বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেছেন এই অলরাউন্ডার। তবে জাতীয় দলে তার প্রথম সুযোগ পাওয়া নিয়ে তখন বিশেষজ্ঞ ও সমর্থকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক সমালোচনা। সময়ের সঙ্গে ব্যাটে-বলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে সেই সমালোচনাই ধীরে ধীরে মুছে দিয়েছেন ২৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
সম্প্রতি নিজের ক্যারিয়ারের কঠিন সময়ের কথা অকপটে তুলে ধরেছেন হর্শিত। জানালেন, এখন ব্যর্থতা সামলানো তার কাছে অনেক সহজ, কারণ ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে দীর্ঘদিন ধরে যে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেটাই তাকে মানসিকভাবে শক্ত করেছে। ব্যর্থ হয়ে বাবার সামনে কেঁদে ফেলার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হর্শিত বলেছেন, ‘এখন আমি জানি কীভাবে ব্যর্থতা সামলাতে হয়। এমন ১০টা বছর দেখেছি, যখন আমাকে ঠিকমতো ডাকাই হতো না। ট্রায়ালে যেতাম, নাম আসত না। বাড়ি ফিরে প্রতিদিন বাবার সামনে কাঁদতাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন মনে হয়, ব্যর্থতা আর আমার মনোবল ভাঙতে পারে না। যা-ই আসুক, সামলাতে পারব। একসময় তো আমি হালই ছেড়ে দিয়েছিলাম।’
তবে সেই সময় তার বাবার অবদান ছিল সবচেয়ে বড়। হার্শিত বলেন, ‘আমি হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু আমার বাবা আমাকে বারবার এগিয়ে যেতে বাধ্য করেছেন।’
ক্যারিয়ারের প্রথম ১৩ ওয়ানডেতে হর্শিত নিয়েছেন ২৩ উইকেট। ২০২৫ সাল তিনি শেষ করেছেন ভারতের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে। শুধু বল হাতে নয়, ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। নিচের দিকে নেমে ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি; দুই ফরম্যাটেই খেলেছেন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যামিও ইনিংস।
এই পারফরম্যান্সের সুবাদেই ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ১৫ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন হর্শিত। এর মাধ্যমে এক বছরের ব্যবধানে দুটি আইসিসি ট্রফি জয়ের সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ী ভারতীয় দলেরও সদস্য ছিলেন এই অলরাউন্ডার। এখন পর্যন্ত ছয়টি টি–টোয়েন্টি ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা সাত।
টিজে/টিএ