‘ঢাকাকে আর অবহেলায় মরতে দেওয়া যায় না’

ঢাকাকে আর অবহেলায় মরতে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) গুলশানের হোটেল লেকশোরে ‘ঢাকা বাঁচানোর ইশতেহার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ ও গুলশান সোসাইটি।

ওমর সাদাত বলেন, ঢাকার নাগরিকদের পক্ষ থেকে আজকের এই উদ্যোগ কোনো অভিযোগের তালিকা নয়, এটি একটি সতর্কবার্তা ও আহ্বান। আমরা চাই রাজনৈতিক দলগুলো ঢাকার সমস্যাগুলোকে স্বীকার করুক, বুঝুক এবং তাদের ইশতেহারে তা প্রতিফলিত করুক। কারণ, ঢাকা যদি বাঁচে, রাষ্ট্র বাঁচবে। আর ঢাকা যদি পরিকল্পনাহীনভাবে ভেঙে পড়ে, তার ভার বহন করতে হবে পুরো দেশকে। এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ঢাকাকে আর অবহেলায় মরতে দেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, ঢাকা একসময় ছিল নদী, বাগান ও বাণিজ্যের শহর, মুঘল সুবাহ থেকে ঔপনিবেশিক নগর। তারপর একটি জীবন্ত রাজধানী। ইতিহাসের দীর্ঘ পরিক্রমায় এই নগর প্রশাসন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির কেন্দ্র হিসেবে নিজস্ব এক গৌরব গড়ে তুলেছিল। অথচ আজ সেই ঢাকা দাঁড়িয়ে আছে এক গভীর সংকটের মুখে। জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ, দূষণে ক্লান্ত, পরিকল্পনাহীনতায় জর্জরিত এই শহর কার্যত মৃতপ্রায়। বাতাস বিষাক্ত, পানি অনিরাপদ, খেলার মাঠ বিলুপ্ত, রাস্তা অচল, যানজট নিত্যদিনের শ্বাসরোধ। এটি যেন ধীরে ধীরে নিভে যাওয়া এক মহান নগর।

গুলশান সোসাইটির সভাপতি বলেন, জাতিসংঘের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা ইতোমধ্যে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। ২০৪৫ সালের মধ্যে এটি হবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নগর। এই বাস্তবতায় ঢাকা আর কেবল একটি শহর নয়, এটি একটি জাতীয় প্রশ্ন। অথচ এই ইন্টেরিম সরকারের পক্ষ থেকে সবকিছু সংস্কারের আলাপ হলেও ঢাকা সংস্কারের কোনো আলাপ হয়নি। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ঢাকা বাঁচাতে একটি সুস্পষ্ট, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট। এই নগর বাঁচাতে হলে বাতাস, পানি, চলাচল, খেলার মাঠ, বাসযোগ্যতা সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।

ওমর সাদাত বলেন, আমাদের ভালোবাসার এই ঢাকাকে বাঁচাতে হবে এ দেশের জন্য, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।

নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সংসদ সদস্য প্রার্থী, নগর পরিকল্পনাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

পিআর/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
আমির হামজার বিরুদ্ধে খুলনায় মামলা Jan 19, 2026
img
আসিফ মাহমুদের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে: নাছির Jan 19, 2026
img
ক্ষমতায় গেলে গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিবারকে পুনর্বাসন করবে বিএনপি: রিজভী Jan 19, 2026
img
রঞ্জিত-চিরঞ্জিত ও প্রসেনজিতকে চার দশক পর দেখা যাবে এক সিনেমায়! Jan 19, 2026
img
শাকসু নির্বাচন স্থগিত Jan 19, 2026
img
নেপালের বিপক্ষে জয় পেয়েছেন সাবিনারা Jan 19, 2026
img

প্রেস উইং

২০২৫ সালে ৭১ ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদান পেয়েছে পুলিশ Jan 19, 2026
img
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ Jan 19, 2026
img
ফের মা হওয়ার গুঞ্জনে রহস্যময় উত্তর বুবলীর! Jan 19, 2026
img
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিতে পারবে না : ধর্ম উপদেষ্টা Jan 19, 2026
img
প্যান-ইন্ডিয়া ছবির শুটিংয়ে অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা প্রকাশ করলেন পূজা হেগড়ে Jan 19, 2026
img
আগামী শনিবার সিরাজগঞ্জ যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান Jan 19, 2026
img
কোনো দলের পক্ষ নেওয়া যাবে না, ভোট হবে নিরপেক্ষ : সেনাপ্রধান Jan 19, 2026
img
সীমান্তের ওপারে স্বৈরাচারের দোসররা গণভোট নিয়ে প্রশ্ন তুলছে: উপদেষ্টা আদিলুর Jan 19, 2026
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল Jan 19, 2026
img
প্রতারণার মামলায় ইভ্যালির রাসেল-শামীমার ১৫ মাসের কারাদণ্ড Jan 19, 2026
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল Jan 19, 2026
img
দেশের অর্থনীতি আর ভঙ্গুর অবস্থায় নেই: অর্থ উপদেষ্টা Jan 19, 2026
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী মাত্র ৪ শতাংশ! Jan 19, 2026
img
দেশের সুষ্ঠু পুনর্গঠনে গণভোট অত্যন্ত জরুরি: উপদেষ্টা শারমীন Jan 19, 2026