দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর বিরতির পর নতুন অ্যালবাম নিয়ে ফিরছে জনপ্রিয় দক্ষিণ কোরীয় গার্ল গ্রুপ ব্ল্যাকপিংক। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে তাদের তৃতীয় ইপি ‘ডেডলাইন’। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত অ্যালবামের টিজারে দেখা যায়, কালো পর্দা ফুঁড়ে ধীরে ধীরে ভেসে উঠছে অ্যালবামের নাম, যা ইতিমধ্যে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
‘ডেডলাইন’ নামটি ব্ল্যাকপিংকের অনুরাগীদের কাছে নতুন নয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ব্ল্যাকপিংক তাদের বিশ্ব সফর ‘ডেডলাইন’-এর ঘোষণা দিয়েছিল। সেই সফরের নাম থেকেই নেওয়া হয়েছে এবারের ইপির নাম। অ্যালবামটিতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত আলোচিত গান ‘জাম্প’ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। গানটি মুক্তির পর বিলবোর্ডের বৈশ্বিক দুই শত গানের তালিকার শীর্ষে উঠে আসে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শ্রোতাদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রায় সাড়ে তিন বছর পর ব্ল্যাকপিংকের নতুন অ্যালবাম প্রকাশের খবরে অনুরাগীদের মধ্যে আলোচনা ও উত্তেজনা তুঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভক্তই লিখেছেন, চলতি বছর ব্ল্যাকপিংকের যাত্রার এক দশক পূর্তি হচ্ছে। দীর্ঘ এই সময়ে নতুন কোনো অ্যালবাম না আসায় তাঁরা একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যালবামের অপেক্ষায় ছিলেন। ফলে ইপি প্রকাশের ঘোষণায় কেউ কেউ খানিকটা হতাশাও প্রকাশ করেছেন।
এর আগে ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্ট জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের নভেম্বরে নতুন অ্যালবামটি প্রকাশ করা হবে। পরে তা তিন মাস পিছিয়ে দেওয়ায় ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অ্যালবামের গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। সংগীত ভিডিও নির্মাণসহ প্রযোজনার সবশেষ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানানো হয়।
এদিকে ব্ল্যাকপিংকের বিশ্ব সফর ‘ডেডলাইন’ও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৬টি শহরে মোট ৩৩টি প্রদর্শনী সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ২৬ জানুয়ারি হংকংয়ের কাই তাক স্টেডিয়ামে টানা তিনটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয় ব্ল্যাকপিংকের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যালবাম ‘বর্ন পিংক’। এর আগে ২০১৯ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত হয়েছিল তাদের সর্বশেষ ইপি ‘কিল দিস লাভ’। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন ইপি ‘ডেডলাইন’ দিয়ে ব্ল্যাকপিংক আবারও সংগীতাঙ্গনে আলোড়ন তুলতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনুরাগী ও বিশ্লেষকেরা।