ট্রাম্পের হুমকির মোকাবিলায় ‘অ্যান্টি-কোয়ার্সন’ পদক্ষেপের প্রস্তুতি ইইউর

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটো মিত্রদের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের শক্তিশালী ‘অ্যান্টি-কোয়ার্সন ইনস্ট্রুমেন্ট’ (এসিআই) ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ফ্রান্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প যদি তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শুল্ক কার্যকর করেন, তবে ইইউ মার্কিন পরিষেবা খাতের ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করতে প্রস্তুত।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে অনুমোদিত এই আইনটি ইইউর একটি ‘নিউক্লিয়ার অপশন’ বা চূড়ান্ত অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত, যা মূলত ভূ-রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল বা অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় তৈরি করা হয়েছে।

ট্রাম্প গত শনিবার আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে বলেন, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি দেওয়া হবে, ততক্ষণ এই চাপ বজায় থাকবে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলো ৯৩ বিলিয়ন ইউরোর পাল্টা শুল্ক অথবা এসিআই ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।

এসিআই-এর অধীনে ইইউ সদস্য দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টিকারী যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে ১০টি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন ডিজিটাল জায়ান্ট যেমন আমাজন, মাইক্রোসফট, নেটফ্লিক্স বা উবারের পরিষেবার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ এবং ইইউর প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ইউরো মূল্যের বিশাল সরকারি টেন্ডার বা দরপত্র থেকে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাদ দেওয়া।

এই বিশেষ আইনের আওতায় ইইউর ২৭টি দেশ আমদানিকৃত পণ্যের ওপর কোটা বা লাইসেন্স ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করতে পারে। এছাড়া মেধা স্বত্ব সংরক্ষণ, আর্থিক পরিষেবা বাজারে প্রবেশাধিকার এবং রাসায়নিক বা খাদ্যপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এই আইনে।

এসিআই-এর প্রধান লক্ষ্য হলো কোনো বিদেশি শক্তির অর্থনৈতিক জবরদস্তি থামানো এবং সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই পদক্ষেপকে একটি ‘ট্রেড বাজুকা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা প্রয়োজনে প্রথমবারের মতো প্রয়োগ করা হতে পারে।

এসিআই কার্যকর করার প্রক্রিয়াটি বেশ সুশৃঙ্খল। ইউরোপীয় কমিশন যেকোনো অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য চার মাস সময় পায়। যদি কমিশন প্রমাণ পায় যে কোনো দেশ ইইউর ওপর অর্থনৈতিক জবরদস্তি করছে, তবে সদস্য দেশগুলো আট থেকে ১০ সপ্তাহের মধ্যে তা নিশ্চিত করে।

এই সিদ্ধান্তের জন্য সদস্য দেশগুলোর ‘কোয়ালিফায়েড মেজরিটি’ বা যোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। যদি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না আসে, তবে তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত পাল্টা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই উত্তেজনা আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে এক নজিরবিহীন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

এমআর/টিএ 

Share this news on:

সর্বশেষ

img
বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশে চাই: নুর Jan 20, 2026
img
২০ জানুয়ারি: ইতিহাসে এই দিনে আলোচিত কী ঘটেছিল? Jan 20, 2026
img
ব্যারিস্টার ফুয়াদের নির্বাচনী তহবিলে আর্থিক সহায়তা দিল ইনকিলাব মঞ্চ Jan 20, 2026
img
জেনে নিন, দেশের বাজারে আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে রুপা Jan 20, 2026
img
১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা সূর্য কুমারের, ফোনে কী কথা হত, প্রকাশ্যে আনলেন খুশি! Jan 20, 2026
img
সংক্রান্তিতে বক্স অফিসের মুকুট চিরঞ্জীবীর, পিছিয়ে প্রভাস Jan 20, 2026
img
বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার Jan 20, 2026
img
উত্তরাধিকার, ব্যর্থতা আর বন্ধুত্ব নিয়ে অকপট রাম চরণ Jan 20, 2026
img
সহজ ছিল না প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বিশ্বজয় Jan 20, 2026
img
ম্যাডকের নতুন চমক ‘ছুমন্তর’ Jan 20, 2026
img
গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না : ফাওজুল কবির খান Jan 20, 2026
img
মার্ক গেয়িকে দলে ভেড়াল ম্যানচেস্টার সিটি Jan 20, 2026
img
জাপানে ধাক্কা খেল ‘পুষ্পা টু’, উদ্বেগে বাণিজ্য মহল Jan 20, 2026
img
জরুরি বার্তা দিয়ে আজহারীর ফেসবুক পোস্ট Jan 20, 2026
img
বাংলাদেশে পুনরায় চালু হলো অন অ্যারাইভাল ভিসা Jan 20, 2026
img
কে আগে ছোঁবেন ১০০ কোটির মাইলফলক, বালাইয়া না নাগ? Jan 20, 2026
img
সব রেকর্ড ভেঙে দেশে স্বর্ণের দামে ইতিহাস Jan 20, 2026
img
মধ্যরাতে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন Jan 20, 2026
img
এবার মিথলজিক্যাল সিনেমায় অভিনেতা অক্ষয় খান্না Jan 20, 2026
img
শাহিদের ছবি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন হুসেন উস্তরার কন্যা, এ বার নতুন কোন দাবি জানালেন তাঁরা? Jan 20, 2026