সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবন-১-এর সামনে অবস্থান নিয়ে এ ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে তারা ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং ছেলে ও মেয়েদের আবাসিক হল এলাকা ঘুরে প্রশাসনিক ভবন-১-এর সামনে এসে সমাবেশে পরিণত হয়। মিছিল চলাকালে শাকসু নির্বাচনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
সমাবেশে বাংলা বিভাগের সদ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. নাসিম বলেন, শাবিপ্রবির প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থীর ন্যায্য অধিকার ছিল শাকসু। কিন্তু এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশব্যাপী নোংরা রাজনীতি শুরু হয়েছে। আমাদের জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার শাকসু নির্বাচন হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজ দুপুর ১২টায় ক্যাম্পাসে গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন করব। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হওয়া অন্যায্যের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে এবং পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদি হলে সর্বোচ্চ শক্তি ও সামর্থ্য দিয়ে তা চালিয়ে যাওয়া হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগেই এই ক্যাম্পাসে শাকসু নির্বাচন আদায় করাই আমাদের লক্ষ্য।
বুধবার থেকে সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। বাকি বিভাগগুলোকেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এ ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হবে।
বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রশিবির সমর্থিত জিএস প্রার্থী মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের এই গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানাই। আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। এই দেশে আর কোনো স্বৈরাচারের জন্ম হতে দেওয়া হবে না।
শাকসু নির্বাচনের দাবিতে মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা আট নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের ঘটনাকে নিন্দা জানিয়েছেন।
এমআই/এসএন