বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। বরং সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শঙ্কাই বাড়ছে যে, আসন্ন বৈশ্বিক আসরে লাল-সবুজদের দেখা যাবে কি না। এ জটিলতার মধ্যেই ক্রিকেটারদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার সোজাসাপটা বক্তব্য- ভেতরে কী আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন; তবে ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে খেলতে চান তিনি ও তার সতীর্থরা।
মঙ্গলবার বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে চট্টগ্রাম রয়্যালসের কাছে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ উঠে আসে। শান্তর নেতৃত্বাধীন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স লিগপর্বে শীর্ষে থাকায় ফাইনালে ওঠার আরেকটি সুযোগ পাচ্ছে। ম্যাচ-পরবর্তী আলাপে শান্ত জানান, ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) থেকেও বিশ্বকাপ ইস্যুতে বোর্ডের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
কোয়াবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নে শান্ত বলেন, এ বিষয়ে আলোচনার সুযোগই তৈরি হয়নি। খেলোয়াড়েরা বিপিএল ও অন্যান্য ব্যস্ততার মধ্যেই ছিলেন। পাশাপাশি সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্বকাপের গুরুত্ব তুলে ধরে শান্তের কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট প্রত্যাশা। তার মতে, একজন ক্রিকেটারের জন্য বিশ্বকাপ সব সময়ই বিশেষ। দুই বছর পরপর আসা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কিংবা চার বছর পরপর হওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপ প্রতিটিই নিজেকে প্রমাণ করার বড় মঞ্চ। সে কারণেই এমন আসরে খেলতে পারার সুযোগ হারানো কারও জন্যই সুখকর নয়।
তবে সিদ্ধান্তের বিষয়টি যে পুরোপুরি ক্রিকেটারদের হাতে নেই, সেটাও মনে করিয়ে দেন শান্ত। নিরাপত্তা, ভেন্যু ও বোর্ড-আইসিসির আলোচনার মতো অনেক ইস্যু রয়েছে, যেগুলোর সবকিছু সম্পর্কে তিনি শতভাগ জানেন না। তবু তার বিশ্বাস, পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব এবং তাতে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে পারবে।
ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বাংলাদেশ নিজেদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে আইসিসিকে। এমনকি গ্রুপ পরিবর্তনের কথাও আলোচনায় এসেছে; কিন্তু এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। এই বাস্তবতায় শান্তের অবস্থান একটাই-ভেতরে কী হচ্ছে তা নিয়ে মন্তব্য করা কঠিন, তবে ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে নামার আগ্রহে কোনো ঘাটতি নেই।
সংক্ষেপে, অনিশ্চয়তার ভিড়েও বাংলাদেশ দলের বার্তা পরিষ্কার, বিশ্বকাপে খেলতেই চান তারা।
টিজে/এসএন