বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা ও কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
প্রয়াত এই অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তার মরদেহ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে সহকর্মী, শিল্পী, চলচ্চিত্রকর্মী ও ভক্তরা তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাবেন।
এরপর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের বড় মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হবে।
জাভেদের পরিবারের বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান।
তিনি বলেন, ‘আজ বাদ আসর ইলিয়াস জাভেদের মরদেহ এফডিসিতে নেওয়া হবে। সেখানে চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মী ও অনুরাগীরা শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।
এরপর জানাজা শেষে মরদেহ উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের বড় মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে নেওয়া হবে এবং সেখানেই দাফন সম্পন্ন করা হবে।’
দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। পাশাপাশি তিনি হৃদরোগেও ভুগছিলেন এবং এর আগে দুইবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
ইলিয়াস জাভেদের জন্ম ১৯৪৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে।
পরবর্তীতে তিনি সপরিবারে পাঞ্জাবে চলে যান। ১৯৬৪ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘নয়া জিন্দেগি’-এর মাধ্যমে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন। তবে ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ সিনেমার পর থেকেই দর্শকমহলে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ওই ছবিতে তার নায়িকা ছিলেন শাবানা।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন দক্ষ নৃত্যপরিচালক।
তার প্রকৃত নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। নৃত্য পরিচালনার মধ্য দিয়েই চলচ্চিত্রজগতে তার যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে নায়ক হিসেবে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে ‘নিশান’ চলচ্চিত্রটি বিশেষভাবে স্মরণীয়।
এসকে/টিএ