সংস্কারের নামে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের এখতিয়ার-বহির্ভূত কিছু কাজ ছাড়া আর কিছুই করেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন।
তিনি বলেন, বেতন বাড়ানো বা এই ধরনের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেয়া অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। মূল সমস্যা হলো- জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে এমন নির্বাচিত সরকার দেশে নেই।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ইকোনমিক গভর্নেন্স অ্যান্ড এন্টি করাপশন’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এই সংলাপের আয়োজন করে।
ড. আসাদুজ্জামান রিপন সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘বেতন বাড়বে কি না, এটা এই সরকারের ঠিক করার বিষয় নয়; এটি নির্বাচিত সরকারের কাজ। সংস্কারের দোহাই দিয়ে তারা এমন অনেক কাজ করছে যা তাদের ম্যান্ডেটের বাইরে।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক-না কেন, তাকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখার স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে।
অন্যথায় যে কোনো সরকারই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো স্বৈরাচারী আচরণ করতে পারে।
সংসদ সদস্যদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এমপিরা নির্বাচিত হওয়ার পর এমপি হোস্টেলকে নিজেদের পারমানেন্ট বাসা বানিয়ে ফেলেন। সেখানে তারা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন এবং আত্মীয়স্বজনদের থাকার ব্যবস্থা করেন। এসব অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ভোটের আগে প্রার্থীরা মানুষের দ্বারে দ্বারে যান, কিন্তু ভোটের পর তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এলাকার মানুষের সঙ্গে এমপিদের কোনো সম্পর্ক থাকে না। বিদ্যমান এই বিধিব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।’
সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এই সরকার গঠনের সময় দুর্নীতি প্রতিরোধ ও ভঙ্গুর সামষ্টিক অর্থনীতি ছিল মূল আলোচনার বিষয়। সরকার কতটুকু কী করতে পেরেছে, তার একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা জাতির সামনে প্রকাশ করা উচিত। তিনি প্রস্তাব করেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয় যেন তাদের কাজের ওপর একটি ‘রিপোর্ট কার্ড’ জাতির কাছে জমা দেয়, যা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আমলারা দিন দিন আরও ক্ষমতাশালী হয়ে উঠছেন, অথচ তাদের হওয়ার কথা ছিল জনবান্ধব। এই আমলাতান্ত্রিক হয়রানিই দুর্নীতি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
সংলাপে রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সুশাসন নিয়ে নিজস্ব মতামত তুলে ধরেন।
এমআই/টিকে