গত বিপিএলের মতো এবারও গল্পটা শেষ হলো একই জায়গায়। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার থেকেই বিদায় নিতে হলো মেহেদী হাসান মিরাজের দলকে। পার্থক্য শুধু জার্সির রংয়ে। গত বছর খুলনা টাইগার্সের নেতৃত্বে ছিলেন মিরাজ, আর এবছর সিলেট টাইটানসের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলালেও পরিণতি বদলায়নি।
মিরপুরে পরশু এলিমিনেটরে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে শেষ বলের ছক্কায় নাটকীয় জয় পেয়েছিল সিলেট। কিন্তু টানা দুই দিনের ম্যাচের ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পায়নি দলটি। পরদিনই একই মাঠে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মুখোমুখি হয়ে ১২ রানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় সিলেট টাইটানস।
এই হারের পর দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সিলেটের প্রধান কোচ সোহেল ইসলাম। মিরাজের প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না পাওয়া নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখুন, আপনি যখন একটা টুর্নামেন্ট শুরু করবেন তখন জানেন যে টানা দুই দিন আমাদের খেলা ছিল। তেমন চিন্তা করারও সুযোগ ছিল না। অধিনায়কত্বের চাপ ছিলই। সব মিলিয়ে আমাদের কাছে মনে হয় মানসিকভাবেও মিরাজ শান্তিতে ছিল না।’
প্লে-অফের দুই ম্যাচেই ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন মিরাজ। এলিমিনেটরে করেন ১৮ রান, দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ১৩ বলে মাত্র ৯ রান। যদিও দলের হারের একমাত্র কারণ তার ব্যাটিং নয়, তবে অধিনায়কের এমন ইনিংসের পর চাপের সমীকরণ মেলাতে পারেননি অন্যরা।
পরিসংখ্যান বলছে, গত মৌসুমে খুলনার হয়ে মিরাজ ছিলেন ভিন্ন এক চরিত্র। ১৪ ম্যাচে ৩৫৫ রান, গড় ২৭.৩, স্ট্রাইক রেট ১৩২.৯৫- সঙ্গে বল হাতেও ১৩ উইকেট। কিন্তু এবারের বিপিএলে সিলেটের হয়ে সেই ধারেকাছেও যেতে পারেননি তিনি। ১২ ম্যাচে মাত্র ১০০ রান, গড় ১২.৫০, স্ট্রাইক রেট ৯০.৯০। বল হাতে নিয়েছেন ৬ উইকেট, ইকোনমি ৯।
এই পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে সোহেল ইসলাম বলেন, ‘যেটা সত্যি কথা যে মিরাজ গত বছর যেভাবে পারফর্ম করেছে, এ বছরটা আসলে সেভাবে করেনি। আমার কাছে মনে হয় যে শুরু করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পারফরম্যান্সের পেছনে শুধু স্কিল কাজ করে ব্যাপারটা সেটাও না। তার (মিরাজ) কী মানসিক অবস্থা, দল কেমন খেলছে, এগুলোও আসলে প্রভাব ফেলে না। বিভিন্ন ধরনের ইস্যু ছিল। আপনারা জানেন।’
সেই ‘ইস্যু’র ইঙ্গিত ছিল মাঠের বাইরের ঘটনাতেও। ১৫ জানুয়ারি কোয়াব সভাপতির ডাকে সাড়া দিয়ে বিপিএল বয়কটে অংশ নেওয়ার পর মিরপুরে খেলতে নেমে দর্শকদের দুয়োধ্বনির মুখে পড়তে হয় মিরাজসহ জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটারকে। এই মানসিক চাপ যে মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে, সেটিও আড়াল করেননি কোচ।
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মিরাজ। রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ২০ ওভারে ৯ উইকেটে তোলে ১৬৫ রান, শেষ ৮ বলে ৪ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৮ রান যোগ করলেও সিলেট সেটিকে কাজে লাগাতে পারেনি। লক্ষ্য তাড়ায় সিলেট আটকে যায় ৮ উইকেটে ১৫৩ রানে। ইমনের ৪৮ রানও হার এড়াতে পারেনি দলকে। রাজশাহীর বিনুরা ফার্নান্দোর ৪ উইকেটের স্পেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার যায় তার ঝুলিতে।
এই হারের রাতেই নাটকীয় ঘটনা ঘটে সিলেট শিবিরে। উপদেষ্টার পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে কান্নাজড়িত ফেসবুক লাইভ করেন ফাহিম আল চৌধুরী, যেখানে তিনি সিলেটের এক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তোলেন। নাম প্রকাশ না করলেও সেই লাইভ দ্রুত ভাইরাল হয়, পরে অবশ্য তিনি সেটি মুছে দেন।
সব মিলিয়ে এবারের বিপিএল মিরাজের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকল হতাশার কারণে। দল বদলালেও চিত্রনাট্য বদলাল না। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারেই থেমে গেল তার নেতৃত্বাধীন দলের যাত্রা, আর প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল অধিনায়ক ও ব্যাটসম্যান মিরাজের পুরো আসরের পারফরম্যান্স!
এমআই/টিকে