সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, এই সরকারের আমলে গত ১৭ মাসে শুধুমাত্র বিদ্যুৎ খাতে ৩৪ হাজার কোটি টাকা সিস্টেম লস হয়েছে। এই টাকার চাল আমদানি করলে দেশের মানুষকে বিনামূল্যে চাল খাওয়ানো যেত। সম্প্রতি নিজের 'তিনতন্ত্র' নামের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া ভিডিওতে তিনি একথা বলেন।
গত ১৯ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, পদ্মা সেতুর দায় পরিশোধ করতে গিয়ে চালের দাম ২০ টাকা বেড়েছে। তার এমন মন্তব্যের প্রসঙ্গে কথা বলেন গোলাম মাওলা রনি।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতু পুরো বাংলাদেশের জন্য একটি আইকনিক প্রজেক্ট। এখানে ধরুন ৪০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে, ধরুন ১০ হাজার কোটি চুরি হয়েছে; এর বেশি না, আমি এই প্রজেক্টের এ-টু-জেড (পুরোপুরি) জানি। এই যে ৩০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে বা ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে, এটার কারণে নাকি ২০ টাকা করে চালের মূল্য বেড়ে গেছে।
গোলাম মাওলা রনি বলেন, যদি বশির সাহেবকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে এই সরকারের আমলে গত ১৭ মাসে শুধুমাত্র বিদ্যুৎ খাতে ৩৪ হাজার কোটি টাকা সিস্টেম লস হয়েছে, যেটা আগে হয়নি। এই সিস্টেম লস যদি বশির অ্যান্ড গং না করতেন, তাহলে তো চালের দাম আরো ২০ টাকা কমতো। মাগনা (বিনামূল্যে) চাল খাওয়ানো যেত। ৩৪ হাজার কোটি টাকার চাল যদি বাংলাদেশে আমদানি করত, কয়েক বছর বিনামূল্যে দেশবাসীকে খাওয়ানো যেত।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই সিস্টেম লসটা এতটা নিয়ন্ত্রণে ছিল বলার মতো না। কিন্তু এই সরকারের আমলে কেন ৩৪ হাজার কোটি টাকা সিস্টেম লস হল? যেটা দিয়ে আরেকটা পদ্মা সেতু করা যেত।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আবার আমলাতন্ত্রকে খুশি করার জন্য সরকার যে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করেছে, এতে আরো এক লক্ষ কোটি টাকা করে প্রতি বছর লাগবে। এই টাকা দিয়ে প্রতিবছর তিনটি পদ্মা সেতু করা যায়। এভাবে সরকারি আমলাদেরকে বেতন ভাতা বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত সরকার নিচ্ছে এটাকে আপনি কী বলবেন?
এসএস/এসএন