স্বেচ্ছায় বিসিবি পরিচালকের দায়িত্ব ছাড়লেন ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত মোখলেসুর রহমান শামীম। আজ (২৩ জানুয়ারি) নিজের অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বিসিবি পরিচালক এবং অডিট কমিটির চেয়ারম্যানসহ সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি দেশের এক ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক তার প্রতিবেদনে শামীম ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন। সেই খবর প্রকাশ হওয়ার পরই তদন্তের স্বার্থে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন শামীম। তবে তিনি এটাও জানান যে দায়িত্ব থেকে তার অব্যাহতি দোষ স্বীকার নয় বরং প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় তার দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ।
ফেসবুক পোস্টে শামীম লেখেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অডিট কমিটির চেয়ারম্যানসহ আমার সব দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিছিয়ে, যেন একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করা যায়। এটি কোনোভাবেই দায় স্বীকার নয়; বরং দেশের ক্রিকেট ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার প্রতি আমার দায়বদ্ধতার প্রকাশ।’
অব্যাহতির সিদ্ধান্ত কষ্টের হলেও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের বিবেচনায় এমনটা করেছেন জানিয়ে শামীম বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত নেয়া কষ্টের হলেও বিশ্বাস করি, ব্যক্তিগত অবস্থানের চেয়ে দেশের ক্রিকেটের সুনাম সবার আগে।’
তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, ‘তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করব এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। সবসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের পাশে ছিলাম, আছি, থাকব।’
সর্বশেষ বিসিবি নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগ থেকে কাউন্সিলর মনোনয়ন নিয়ে বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন শামীম৷ এরপর অডিট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন একজন ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক।
প্রতিবেদনে ওই ক্রীড়া সাংবাদিক দাবি করেন, এবারের বিপিএলে সিলেট পর্বে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ম্যাচে ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত শামীম। তার দাবি, সিলেটের নূরজাহান হোটেলে ম্যাচ গড়াপেটায় যুক্তদের একত্র করতেন বোর্ড পরিচালক শামীম। সেখান থেকেই নিজেদের লোকদের সঙ্গে ফিক্সিংয়ের ব্যাপারে আলাপ হত আলোচিত এই পরিচালকের। পরিকল্পনা, টাকাপয়সার ব্যাপারসহ সবকিছুই নাকি নিয়ন্ত্রণ করেছেন শামীমই। সেই সঙ্গে আগাম টাকা দেওয়ার কল রেকর্ডও দিয়েছেন ওই ক্রীড়া সাংবাদিক। কে কোথায় থাকবে, কে কাকে টাকা দেবে, কত টাকা দেবে এসব কিছুর কল রেকর্ড নিজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছেন তিনি।
এসকে/টিকে