ভারতের ৮৭ শতাংশ পণ্যে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করল ইইউ

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ভারতের তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও প্লাস্টিকসহ অধিকাংশ পণ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা বা জিএসপি স্থগিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর ফলে ইউরোপের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে যাচ্ছেন ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা। ভারতের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ও কেনিয়ার পণ্যেও এই সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই) জানিয়েছে, ইইউতে রপ্তানি হওয়া ভারতীয় পণ্যের প্রায় ৮৭ শতাংশ এখন থেকে পূর্ণ এমএফএন বা সাধারণ শুল্কহারে দেশটিতে প্রবেশ করবে। আগে জিএসপি সুবিধার আওতায় এসব পণ্যে গড়ে ২০ শতাংশ শুল্ক ছাড় পাওয়া যেত। উদাহরণস্বরূপ, যে তৈরি পোশাকে আগে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো, এখন সেখানে ১২ শতাংশ শুল্ক গুণতে হবে।

ইইউ ভারতের মূল রপ্তানি খাতগুলোতে এই কাঁচি চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খনিজ, রাসায়নিক, প্লাস্টিক, বস্ত্র ও পোশাক, লোহা-ইস্পাত, যন্ত্রপাতি ও বৈদ্যুতিক পণ্য। মাত্র ১৩ শতাংশ পণ্য, বিশেষ করে কৃষি ও চামড়াজাত পণ্যে এই সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরের জন্য এই সুবিধা পুরোপুরি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।

ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনসের (এফআইইও) মহাপরিচালক অজয় সাহাই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো

দেশগুলোর তুলনায় ভারতের সক্ষমতা কমে যাবে। কারণ ওই দেশগুলো এখনো শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে ইউরোপে পণ্য পাঠানোর সুবিধা পাচ্ছে।

ভারতের জিটিআরআই-এর প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব জানান, জিএসপি সুবিধা হারানো এবং একই সময়ে ইইউর নতুন কার্বন কর বা সিবিএএম চালু হওয়া- এই দুই মিলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন। ভারত ও ইইউর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা চললেও, স্বল্প মেয়াদে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এমআই/এসএন

Share this news on:

সর্বশেষ

img
বিশ্বে বায়ুদূষণে শীর্ষ শহর কায়রো, ২য় অবস্থানে রাজধানী ঢাকা Jan 24, 2026
img
বিএনপির জনসমাবেশ উপলক্ষে চট্টগ্রামে ড্রোন উড্ডয়নে নিষেধাজ্ঞা Jan 24, 2026
img
শহীদদের পরিবারকে আমরা মাথার তাজ করে রাখব: জামায়াত আমির Jan 24, 2026
img
ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের আগে ভয় পেয়েছিলেন ইরফান বললেন দিব্যা দত্ত Jan 24, 2026
img
জনতার বিজয় ছিনিয়ে আনতে যুবকদের তৈরি থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের Jan 24, 2026
img
দায়িত্ব পেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো : জামায়াত আমির Jan 24, 2026
img
অভিনেত্রী অহনার মেয়েকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিল নেটিজেনরা Jan 24, 2026
img
ক্ষমতায় গেলে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারীদেরকে মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দিতে চাই: জামায়াত আমির Jan 24, 2026
img
মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সম্পদ সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র Jan 24, 2026
img
মেয়ের আদুরে মুহূর্ত ভাগ করলেন অনিন্দিতা Jan 24, 2026
img
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমা চাওয়া উচিত: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Jan 24, 2026
img
ট্রাম্পের হুমকির মধ্যে গ্রিনল্যান্ড সফর করলেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী Jan 24, 2026
img
ঝিনাইদহে বিএনপিতে যোগ দিলেন জাতীয় পার্টির ২ শতাধিক নেতাকর্মী Jan 24, 2026
img
বিএনপিতে যত রাজাকার আছে, জামায়াতে তার দশ ভাগের এক ভাগও নাই: সুলতান আহমদ Jan 24, 2026
img
পাকিস্তানে বিয়েবাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ৫ জনের Jan 24, 2026
img
জামায়াত কখনো সরকারে গিয়ে কাজ করেনি, বিএনপি পরীক্ষিত দল: মির্জা ফখরুল Jan 24, 2026
img
হার্ট সুস্থ রাখতে খাবারে রাখুন মাছের ডিম Jan 24, 2026
img
রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন জামায়াত আমির Jan 24, 2026
img
ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি Jan 24, 2026
img
যুদ্ধ বন্ধে আবুধাবিতে প্রথমবার ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেছে মস্কো, কিয়েভ ও ওয়াশিংটন Jan 24, 2026